সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেন চলবে `আখাউড়া-আগরতলা’ রেলপথে
- আপডেট সময় : ১০:৪৯:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০২৩ ২২১ বার পড়া হয়েছে
রেলমন্ত্রী বলেন, আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পটি প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ও রেলযোগাযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। বাণিজ্য প্রসারিত হবে। সময় সশ্রয়ী পণ্যপরিবহণের সুবিধাভোগী হবেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ
আমিনুল হক, ঢাকা
সময়টা ২০১৮ সাল। সে বছর ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ভারতের প্রতিনিধিরা আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। যৌথ বৈঠক ছিল প্রানবন্ত। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকার সুযোগ হয়েছিল। ১৮ মাস মেয়াদের এই রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের সংবাদে রাজ্যবাসী ছিল উৎফুল্ল। সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হয়। নতুন করে পাসপোর্ট করেছেন অনেক ত্রিপুরাবাসী। এটি দু’দেশের মানুষের আবেগের প্রকল্প। এই পথে ট্রেন চলাচল করবে তা দেখেই অনেকে চোখের জল ফেলবেন।
প্রকল্পটি কাজ পায় ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। একই বছরের জুলাই মাসে কাজ শুরু হয়। ১৮ মাসের প্রকল্প পাঁচ বছরে গড়ালো। এরই মধ্যে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়। দফায় দফায় প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে গিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
অবশেষে বছর পাঁচেক পেরিয়ে মিললো সেই সুখবর। আসছে সেপ্টেম্বরেই চালু হচ্ছে কাঙ্খিত আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রেলপথের উদ্বোধন করেন।
বুধবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেিএমন সুখব দিলেন বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রকের মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। জানালেন, জুন মাসেই যে ২০ শতাংশ কাজ বাকী তা শেষ হচ্ছে। এরপর ট্রায়াল রান। তারপর সেপ্টেম্বরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।

এসময় রেলপথ মন্ত্রী জানান, আগামী জুনের মধ্যে আখাউড়া-লাকসাম ডাবল লাইনেইর কাজ শেষ হবে। তখন ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাবল লাইন সুবিধার আওতায় চলে আসবে। ডাবল লাইন হয়ে গেলেই বেশ কয়েকটি নতুন ট্রেন সংযুক্ত হবে।
আখাউড়া-আগরতলা আন্তঃদেশীয় এই রেলপথটি ঘিরে দু’দেশের মানুষের অনেক আবেগ জড়িত। এই রেলপথটি চালুর পর ত্রিপুরা থেকে মাত্র ৮ ঘন্টায় কলকাতা পৌছানো সম্ভব হবে।বর্তমানে ত্রিপুরা থেকে কলকাতঅয় পৌছাতে সময় লাগছে প্রায় ৩৮ ঘণ্টা।
তবে সেই পরিষেবা পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে। আখাউড়া থেকে টঙ্গী পর্যন্ত মিটার গেজ রেলপথে শিগগিরই ডুয়েল গেজ রেল বসানো হবে। তখন মিটার এবং ব্রডগেজ ট্রেন চলাচল করতে পারবে। তখনই আগরতলা-কলকাতা সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
রেলমন্ত্রী বলেন, আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পটি প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ও রেলযোগাযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। বাণিজ্য প্রসারিত হবে। সময় সশ্রয়ী পণ্যপরিবহণের সুবিধাভোগী হবেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সময় দিলে এই রেলরুটটি উদ্বোধন করা হবে। ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। কয়েক কিলোমিটার রুটে রেললাইন বসানো বাকি। রক্ষণা বেক্ষন শেষে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নিয়মিত ট্রেন চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী জানান, শুরুতে মিটার গেজে ট্রেন চলাচল করবে। এর আগে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ কাজ পরিদর্শণন শেষে ট্রেনযেগে চট্টগ্রাম থেকে আখাউড়ায় আসেন মন্ত্রী।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ পরিচালক শরৎ শর্মা জানালেন, প্রকল্পটির ৮০ ভাগ কাজ শেষে হয়েছে। রাত-দিন কাজ চলছে। জুনের মধ্যেই ট্রায়াল রান করা হবে। ছয় দশমিক শূন্য নয় কিলোমিটার রেলরুট নির্মাণ হচ্ছে। এরই মধ্যে তিন দশমিক শূন্য দুই কিলোমিটার রেলরুট বসানো হয়ে গেছে। প্রকল্প ব্যয় দুইশো চল্লিশ কোটি টাকা।
আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পের পরিচালক আবু জাফর মিয়া ও প্রকল্পের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের কান্ট্রি হেড শরৎ শর্মা মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।




















