সুদেষ্ণার বারো হাতের গল্প
- আপডেট সময় : ০৯:১৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ জুলাই ২০২৩ ৩৫৬ বার পড়া হয়েছে
অনিরুদ্ধ
বারো হাতের গল্পটা আমায় শুনিয়েছিল সুদেষ্ণা। সে যখন গল্পটা বলছি, তখন মাঝে মাঝে তার গলা থমে আসছিল। সম্ভবত তার দেহ কাঁপছে উত্তেজনায়। কারণ, নিজের গড়া ইতিহাস বলতে কার না ভালো লাগে? তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সুদেষ্ণা। শান্তিনিকেতনে তখন মিউজিক নিয়ে পড়ছে।
বোলপুর থেকে শান্তিনিকেতন হয়ে ওঠে রবীন্দ্রনাথের পরশে। গাছগাছালির ছায়াঘেরা বোলপুরে শান্তিনিকেতন কেন গড়ে তুলে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ? সে কথায় নাই বা গেলাম। কিন্তু যে গল্পটা শুরু হয়েছিল, সেই গল্পটার সৃষ্টি কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মোলায়েম সুর থেকেই। বারো হাতের মধ্যেও যে জীবনের ছন্দ, চিত্রকল্প এবং জীবনবোধ মিলেমিশে অঙ্গের সৌজন্য বাড়িয়ে দিতে পারে, দৃষ্টি কেড়ে নিতে পারে এক লহমায়, তারই গল্পটা শোনায় সুদেষ্ণা।
গল্পটা শোনার পরই তা খুব মনে ধরেছিল। তাই দ্রুতই লেখাটা শেষ করি। কিন্তু এই লেখাটা আরও কয়েকদিন আগেই প্রকাশের কথা থাকলেও একটি তথ্যচিত্রে কাজে বেড়িয়ে যেতে হয় প্রায় তিনশ’ মাইল দূরে। সেখান থেকে ফিরে এসেই প্রকাশের জন্য ছেড়ে দেওয়া।
‘মানুষের হাত ধরেই ইতিহাস পা বাড়ায়’, এটাই তার গল্প। সুদেষ্ণার গল্পরা মানুষের গায়ে গায়ে চড়ে বেড়ায় পরম মমতায়। এমন একটা জীবনবন্দনার সৃষ্টি সেই শান্তিনিকেতনের ছায়াঘেরা পরিবেশ ও সুর থেকে। শিল্প যখন মানুষের প্রার্থিব বিষয়, তখন তো তাকে বরণের কোন বিকল্প নেই। আজ কত বছর এই শিল্প বন্দনায় নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছে সুদেষ্ণা সে নিয়ে দু’চার কথা বলা দরকার।

একটা সাংস্কৃতিক পরিবারের সন্তান সুদেষ্ণা। স্কুল জীবন থেকেই নাচের প্রতি তার প্রচণ্ড আগ্রহ । বাবা বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। কিন্তু মেয়ের এমন আগ্রহের জায়গাটা কাজে লাগানোর ভাবনা তার মাথায় যে ডুকেছে, সে আর তাকে নিস্তার দিচ্ছে না। বেশ কিছুটা সময় কেটে গেল। পরবর্তীতে শান্তিনিকেতনে লেখাপড়া শেষ করে বাঙালি আর দশটা মেয়ের মতো তাকেও ঘরসংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়।
এরই মধ্যে অনেকটা সময় কেটে গেছে। গান নিয়ে বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিন্তু মনটা ভরছে না। একটা বিষয় সব সময় মাথায় ঘুরে বেড়াতো। অবশেষে বন্ধু অজন্তা হালদারকে নিয়ে ‘নন্দরানী’ প্রতিষ্ঠা। এখানে কি হয়?

আমরা যখন শান্তিনিকেতনে পড়তাম, তখন সেখানে হাতের কাজের দারুণ দারুণ শাড়ি পাওয়া যেতো। কাঁথা স্টিচ। দৃষ্টি নন্দন শাড়িগুলোতে আমার চোখ আটকে যেতো। অবশেষে অজন্তাকে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়া। দু’জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘নন্দরাণী’ এখন বেশ চলছে। পরিচিতি পাচ্ছে। এখানের হাতের কাজের শাড়ি নিয়েই ভারতের প্রান্তিক রাজ্য ত্রিপুরার আগরতলায় যাচ্ছে, ‘নন্দরাণী’। ওখানে আগরতলা প্রেসক্লাবে তিনদিনের এক্সিবিশনে যোগ দেবে সুদেষ্ণারা।



















