ঢাকা ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি চাঁদাবাজি-ছিনতাই দমনে জিরো টলারেন্স: মাঠ পর্যায়ে কঠোর বার্তা আইজিপির কুয়েতে তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই

সালমাদের জীবনে দীপ জ্বালাতে চান শান্ত

আমিনুল হক
  • আপডেট সময় : ০২:৫৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ২৯০ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মেয়ে! ছেলে হলেতো বংশের প্রদীপ হতো। শেষ বয়সে বাবা-মায়ের হাতের লাঠি হতো। মেয়ে তার কিইবা করতে পারবে? কম বেশি পড়াশোনা করবে এবং যথারীতি বিয়ের পর অন্যের বাড়িতে চলে যাবে। রান্না-বান্না আর সংসার করবে এইতো মেয়েদের জীবন। মেয়ে হওয়া মানে বাবা মায়ের মাথার বোঝা! এই সব কথা সমাজের যে সমস্ত মানুষেরা বলেন, তাদের এসব বক্তব্য ভুল প্রমাণ কররে দিয়েছেন শান্ত। আর বাবার পরামর্শ অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তুলে আজ যোগ্য জবাব দিলেন সাহসী মেয়ে শান্ত। সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন মেয়েরাও পারে। বুঝিয়ে দিলেন ছেলেরা যদি বংশের প্রদীপ হয়, তবে মেয়েরা প্রদীপ জ্বালানো সলতে বা তেল যাকে ছাড়া প্রদীপ জ্বলে না।

 

চোখে মুখে তার পিছিয়ে পড়া নারীদের সামনের দিকে এগিয়ে নেবার স্বপ্ন। নারী সমাজকে অর্থনীতির সড়কে একিভূত করা না গেলে, অর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এ জন্য অলস হাতগুলো কর্মীর হাতে পরিণত করার সংকল্প নিয়ে কাজ করে চলেছেন শান্ত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীরা যে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ জীবনযাত্রায় সামিল হচ্ছেন, তা বলা যাবে না। সমাজে নারীদের একটা বড় অংশই অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে। অনেকটা নিজের সংসার পরিচালনার দায়িত্ব থেকেই কাজ করতে হয়।

আপন মনে কাজ করে চলেছেন তিনি। একের পর এক পিঠা তৈনি করছেন আর তা গুড়ের সিরায় ভিজিয়ে রাখছেন। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন। কারো কারো কথার উত্তর দিচ্ছেন হাসি মুখে। পিঠা শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মুখ তুলে স্মিত হেসে উত্তর দিলেন পঁচিশ বছর। তার ঘুরে দাঁড়ানোর মন্ত্রটা পেয়েছেন বাবার কাছ থেকে। বাবার সুপরামর্শই তার পথ চলার শক্তি। এক পর্যায়ে স্মৃতির জানালা খুলে দিলেন। বছর পচিশ আগের অল্প পরিসরে যে কাজটি শুরু করেছিলেন, আজ তা ঘিরে বেশ কিছু কর্মী যুক্ত হয়েছেন শান্ত’র পিঠা শিল্পের সঙ্গে। প্রতি বছরই নতুন নতুন কর্মী যুক্ত হচ্ছেন।

নারী স্বাধীনতা সম্পর্কে শান্ত বলেন, নারীরা তখনই স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারবেন, যখন তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি হবেন। শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক মুক্তি না এলে হাজারো চেষ্টা করে সমাজে একজন নারী অবদান রাখতে পারবেন না। শান্ত সব সময় ভাবেন কিভাবে তার প্রতিষ্ঠান গজারিয়া পিঠা ঘরের মাধ্যমে নারীর কর্মসংস্থান করা যায়। শান্ত একাধারে উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক। একটি সুষ্ঠু সমাজ বিনির্মানে মানুষকে সচেতন হতে হবে। নারীর প্রতি সম্মান দেখা হবে। নারী স্বাধীনতা এখনও সেমিনার-স্লোগানেই বন্দী। তা থেকে বেড়িয়ে আসার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যে কোন প্রতিকূলতাকে ডিঙ্গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান। সালমাদের জীবনে দীপ জ¦ালাতে চান শান্ত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সালমাদের জীবনে দীপ জ্বালাতে চান শান্ত

আপডেট সময় : ০২:৫৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

মেয়ে! ছেলে হলেতো বংশের প্রদীপ হতো। শেষ বয়সে বাবা-মায়ের হাতের লাঠি হতো। মেয়ে তার কিইবা করতে পারবে? কম বেশি পড়াশোনা করবে এবং যথারীতি বিয়ের পর অন্যের বাড়িতে চলে যাবে। রান্না-বান্না আর সংসার করবে এইতো মেয়েদের জীবন। মেয়ে হওয়া মানে বাবা মায়ের মাথার বোঝা! এই সব কথা সমাজের যে সমস্ত মানুষেরা বলেন, তাদের এসব বক্তব্য ভুল প্রমাণ কররে দিয়েছেন শান্ত। আর বাবার পরামর্শ অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তুলে আজ যোগ্য জবাব দিলেন সাহসী মেয়ে শান্ত। সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন মেয়েরাও পারে। বুঝিয়ে দিলেন ছেলেরা যদি বংশের প্রদীপ হয়, তবে মেয়েরা প্রদীপ জ্বালানো সলতে বা তেল যাকে ছাড়া প্রদীপ জ্বলে না।

 

চোখে মুখে তার পিছিয়ে পড়া নারীদের সামনের দিকে এগিয়ে নেবার স্বপ্ন। নারী সমাজকে অর্থনীতির সড়কে একিভূত করা না গেলে, অর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এ জন্য অলস হাতগুলো কর্মীর হাতে পরিণত করার সংকল্প নিয়ে কাজ করে চলেছেন শান্ত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীরা যে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ জীবনযাত্রায় সামিল হচ্ছেন, তা বলা যাবে না। সমাজে নারীদের একটা বড় অংশই অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে। অনেকটা নিজের সংসার পরিচালনার দায়িত্ব থেকেই কাজ করতে হয়।

আপন মনে কাজ করে চলেছেন তিনি। একের পর এক পিঠা তৈনি করছেন আর তা গুড়ের সিরায় ভিজিয়ে রাখছেন। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন। কারো কারো কথার উত্তর দিচ্ছেন হাসি মুখে। পিঠা শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মুখ তুলে স্মিত হেসে উত্তর দিলেন পঁচিশ বছর। তার ঘুরে দাঁড়ানোর মন্ত্রটা পেয়েছেন বাবার কাছ থেকে। বাবার সুপরামর্শই তার পথ চলার শক্তি। এক পর্যায়ে স্মৃতির জানালা খুলে দিলেন। বছর পচিশ আগের অল্প পরিসরে যে কাজটি শুরু করেছিলেন, আজ তা ঘিরে বেশ কিছু কর্মী যুক্ত হয়েছেন শান্ত’র পিঠা শিল্পের সঙ্গে। প্রতি বছরই নতুন নতুন কর্মী যুক্ত হচ্ছেন।

নারী স্বাধীনতা সম্পর্কে শান্ত বলেন, নারীরা তখনই স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারবেন, যখন তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি হবেন। শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক মুক্তি না এলে হাজারো চেষ্টা করে সমাজে একজন নারী অবদান রাখতে পারবেন না। শান্ত সব সময় ভাবেন কিভাবে তার প্রতিষ্ঠান গজারিয়া পিঠা ঘরের মাধ্যমে নারীর কর্মসংস্থান করা যায়। শান্ত একাধারে উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক। একটি সুষ্ঠু সমাজ বিনির্মানে মানুষকে সচেতন হতে হবে। নারীর প্রতি সম্মান দেখা হবে। নারী স্বাধীনতা এখনও সেমিনার-স্লোগানেই বন্দী। তা থেকে বেড়িয়ে আসার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যে কোন প্রতিকূলতাকে ডিঙ্গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান। সালমাদের জীবনে দীপ জ¦ালাতে চান শান্ত।