সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবসে নায়ক সিধু-কানুকে স্মরণ
- আপডেট সময় : ১১:২০:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০২৩ ২৩১ বার পড়া হয়েছে
সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবসের আলোচনায় বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মঞ্চে উপবিষ্ট সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার
‘১৮৫৫ সালে ভারতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়। সেই বিদ্রোহে নিহত হন সাঁওতাল নেতা সিধু-কানুসহ আরও অনেকে। তখন থেকে সাঁওতালরা প্রতিবছর ৩০ জুন সাঁওতাল ‘হুল’ বা বিদ্রোহ দিবস পালন করে আসছে’
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
১৮৫৫ সালে ভারতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়। সেই বিদ্রোহে নিহত হন সাঁওতাল নেতা সিধু-কানুসহ আরও অনেকে। তখন থেকে প্রতিবছর ৩০ জুন সাঁওতাল ‘হুল’ বা বিদ্রোহ দিবস পালন করা হয়ে থাকে।
সিধু-কানুসহ শহীদ সাঁওতালদের স্মরণে নটরডেম কলেজ অডিটোরিয়ামে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম আয়োজিত ১৬৮তম ঐতিহাসিক ‘মহান সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে।
দখলবাজ ইংরেজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠত ভারতের গণমানুষ। নির্যাত, নিপীড়ন, শোষণ ইত্যাদি নিয়মে পরিণত করে ইংরেজ শাষকগোষ্ঠী। তাদের অত্যাচারে মানুষ অতীষ্ট।
সময়টা ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন। সিধু-কানুর ডাকে প্রায় ৪০০ গ্রামের ৩০ হাজারের অধিক সাঁওতাল জনগোষ্ঠী একত্রিত হয়ে ভারতের ইতিহাসে প্রথম কলকাতা অভিমূখে পদযাত্রা তথা গণমিছিল করে। তাদের সমবেত কন্ঠে উচ্চারিত হয় জমি চাই, মুক্তি চাই শ্লোগান।
সাঁতাল বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক সিধু-কানুকে স্মরণ করল বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের একমাত্র খ্রিস্টধর্মাবলম্বী সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণ সরকার বলেন, বাঙালিরা বীরের জাতি। বঙ্গবন্ধু শিখিয়ে গিয়েছেন, লড়াই করে কিভাবে নিজের অধিকার আদায় করতে হয়।

এমপি গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার বলেন, অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী বিদ্রোহ করেছিল। তিনি বলেন, সিধু-কানুরা দখলবাজদের কবল থেকে মাতৃভূমিকে রক্ষায় প্রাণ উসর্গ করেছে। তাদের ঋণের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আজকের আলোচনা। বীরদের বরাবরই স্মরণ করে থাকে বাঙালি জাতি।
শুক্রবার বিকালে নটরডেম কলেজ প্রাঙ্গণে পা রাখতেই দেখা গেল সাঁওতাল নৃত্যশিল্পীদের মহড়া চলছে। কলেজ প্রাঙ্গণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ দাঁড়িয়ে। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নটরডেম কলেজ মিলনায়তনে সাঁওতাল দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক সাঁওতাল জনগোষ্ঠী উপস্থিত ছিলেন।

সাঁওতাল জনগোষ্ঠী তাদের ঐতিহ্যবাহী নাচের মাধ্যমে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানায়। নটরডেম কলেজ প্রাঙ্গণে এসময় র্যালীও করা হয়।
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী অগ্নিস্ফূলিঙ্গের মতো জ্বলে ওঠেছিল। গণমিছিলে অংশ নেওয়া ৬/৭ জন সাঁওতাল নেতাকে গ্রেফতার করে অত্যাচারী মহাজন কেনারাম ভগত ও জঙ্গিপুরের দারোগা মহেশ লাল দত্ত। তারা সিধু-কানুকে গ্রেফতার করতে উদ্যত হলে বিপ্লবীরা ৭ জুলাই মহাজন কেনারাম ও দারোগা মহেশ লালসহ তাদের দলের ১৯ জনকে হত্যা করে।
বিপ্লবীরা বীরভূমের বিখ্যাত ব্যবসা কেন্দ্র নাগপুর বাজার ধ্বংস করে এবং ২১ শে জুলাই কাতনা গ্রামের ইংরেজ বাহিনী বিপ্লবীদের কাছে পরাজয়ের স্বীকার করে।
১৮৫৬ সালের ফেব্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে সিধুর গোপন আস্তানায় হানা দেয় ইংরেজ পুলিশ। এ লড়াইয়ে সাঁওতাল বিদ্রোহের মহানায়ক সিধু পুলিশের গুলিতে নিহত হন। দ্বিতীয় সপ্তাহে একদল সশস্ত্র বিদ্রোহীসহ কানু পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। আদালতের বিচারে কানুকে ফাঁসি ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।

বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও বলেন, প্রতি বছরই সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালন করা হয়ে থাকে। এদিন বিদ্রোহের অন্যতম নেতা সিঁধু/কানুকে স্মরণ করা হয়। তিনি বলেন, সাঁওতালদের জমি অীধকার এবং শিক্ষাসহ সমস্যাগুলোর দিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।
এদিন আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌক্তিক সব দাবি মেনে নেন। দেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী সাঁওতালদের দাবি আদায়ে সরকার সব সময় সাহায্য করবে।
এসময় তিনি বলেন, উন্নয়নের মহাসড়কে চলছে বাংলাদেশ। শিক্ষায় পিছিয়ে থাকলে হবে না, এগিয়ে যেতে হবে। সাঁওতালদের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে আছে সরকার।
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সীমান্তে কিছু অরক্ষিত জায়গা আছে, সেখান দিয়ে মিয়ানমারের নাগরিকরা অনুপ্রবেশ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে।


















