যুক্তরাষ্ট্র ৬৬ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ০১:২০:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
জলবায়ু, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবাধিকার কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক সহায়তায় সম্ভাব্য ঘাটতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬৬টি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক সহায়তা, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সম্ভাব্য প্রভাব তৈরি করেছে। এ সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে জলবায়ু চুক্তি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলো।
ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, ইউনেসকো এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছে। এবার প্রকাশিত প্রেসিডেন্সিয়াল স্মারকে আরও ৬৬টি সংস্থার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি), ইন্টারগভার্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি), আন্তর্জাতিক ট্রেড সেন্টার, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক সংস্থা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়নের সংকটে পড়বে এবং এর প্রভাব সরাসরি পড়বে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। বাংলাদেশে বৈশ্বিক সংস্থাগুলো খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবিক সহায়তা ও রোহিঙ্গাদের জরুরি কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করে আসছে। মার্কিন অর্থায়ন কমে গেলে এসব কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।
বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত উদ্যোগে বাংলাদেশের জন্য আইপিসিসি ও ইউএনএফসিসি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। এই সংস্থাগুলো বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলবায়ু ঝুঁকি ও পরিবেশ–সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে, যা বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ফোরামে তার নৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান দৃঢ় করতে সহায়তা করে। মার্কিন সরে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশসহ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে বৈশ্বিক সহযোগিতা সীমিত হবে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানোর প্রতীকী প্রভাব বড়। অন্য ধনী দেশগুলোরও এ ধরনের বহুপাক্ষিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার উদাহরণ তৈরি হতে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থায়ন ও সমন্বয় দুর্বল হবে।
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা মূলত ইউএসএআইডির মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার (৫০০ কোটি টাকার কাছাকাছি) সহায়তা পেয়েছে, যা খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, গণতন্ত্র এবং মানবিক সহায়তায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে ইউএসএআইডি বন্ধ হওয়ার পর এসব প্রকল্পে ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভাজন বাড়বে। অর্থায়নের সংকট ও বহুপাক্ষিক সংস্থা কার্যক্রমে দুর্বলতা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা কাঠামোয় প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলো যেসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সুরক্ষা ও সহায়তা পেত, তা সীমিত হবে। এছাড়া বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জলবায়ু বিষয়ক উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি বৈশ্বিক সমন্বয়কে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
মোটকথা, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কেবল দেশটির স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে না, বরং বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো এখন আন্তর্জাতিক সহায়তা, বাণিজ্য ও জলবায়ু নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।



















