মিরপুরের রূপনগরে ১৬ জনের মৃত্যু বিষাক্ত গ্যাসে নয়, আগুনে পুড়েই
- আপডেট সময় : ০৪:৫২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৯৫ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার মিরপুরের রূপনগর শিয়ালবাড়ি এলাকার কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, সবাই আগুনে পুড়ে মারা গেছেন।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ময়নাতদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যু আগুনে পুড়ে হয়েছে। বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এখন পর্যন্ত ১০টি মরদেহের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল এলাকায়। কেউ নির্বাক হয়ে বসে আছেন, কেউ আবার প্রিয়জনের নাম ধরে কাঁদছেন। রূপনগরের সরু গলির সেই টিনশেড গোডাউন এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১২টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দাহ্য কেমিক্যাল ও প্লাস্টিকজাত দ্রব্য থাকায় মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। টানা সাত ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের বেশিরভাগই পোশাকশিল্পের শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ভেতরে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ ছিল। তাপ ও ধোঁয়ার তীব্রতায় অনেকে বের হতে পারেননি।
রূপনগরের এই অগ্নিকাণ্ড শুধু ১৬টি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, একেকটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। হাসপাতালের বারান্দায় এক মা ছেলের ছবি আঁকড়ে ধরে বলছিলেন, সে সকালে কাজে গিয়েছিল, আর ফিরল না।
এই একটি দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে, শ্রমিক নিরাপত্তা আর কেমিক্যাল গুদাম ব্যবস্থাপনায় আমরা কতটা প্রস্তুত?



















