ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার আমলের সম্পর্কের অধ্যায়ের সমাপ্তি
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
আপডেট সময় :
০১:৫৩:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
৯৪
বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির: ছবি সংগ্রহ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের সম্পর্কের ধারা বদলে ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে চায় বর্তমান সরকার।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
উপদেষ্টা জানান, বৈঠকে দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় থাকলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
পাইপলাইনে জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে আমরা আশাবাদী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, ছবি: সংগৃহীত
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার আমলে যে ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা আর হবে না। সেই অধ্যায় এখন শেষ।
আসন্ন ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স-এ যোগ দিতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভারত সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এই সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
হুমায়ুন কবির জানান, সফরে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়, বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ অন্যান্য অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, সোমবার আয়োজিত এই বৈঠকে তারা দুদেশের জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনকেন্দ্রিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, ছবি: সংগৃহীত
জনস্বাস্থ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, নারী ক্ষমতায়ন, পল্লী উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্যবসা করার সহজতা, প্রযুক্তি অংশীদারিত্ব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর আলোচনায় আলোকপাত করা হয়।
ভারতীয় হাইকমিশনার জোর দিয়ে বলেন যে, ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সংযোগমূলক সম্পর্ক জোরদার এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান বৃদ্ধি করে দুদেশের ভৌগোলিক নৈকট্যকে নতুন সুযোগে রূপান্তরিত করা উচিত।
হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং দূরদর্শীভাবে কাজ করার জন্য ভারতের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।