বাংলাদেশে যাত্রী নৌযানে বিধ্বংসী আগুনে দগ্ধ মৃত্যু ৩৭ জনের
- আপডেট সময় : ০৩:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১ ৩১২ বার পড়া হয়েছে
ছবি সংগ্রহ
বাংলাদেশের দক্ষিণ জনপদ ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে যাত্রী বোঝাই নৌযানে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশের জলপথে প্রাচীনকাল থেকেই যাত্রীবাহী জলযান চলাচল করছে। কিন্তু এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এতো প্রাণহানীর ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম। দগ্ধ হয়েছে বহুজন। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ যাত্রীর সংখ্যা প্রায় শতাধিক।
আগুনে যাত্রী হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার বিকাল নাগাদ নৌযানটি পাঁচশতাধিক যাত্রী নিয়ে দক্ষিণজনপদ বরগুনার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যায়। রাত প্রায় তিনটে। শীতের রাত সবাই গভীর ঘুমে। এমন সময় আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নৌযানটিকে। ইঞ্জিন ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত।
লঞ্চের যাত্রীরা জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ ছেড়ে আসা বরগুনাগামী লঞ্চ এমভি অভিযান-১০ রাত তিনটে নাগাদ ঝালকাঠির গাবখান চ্যানেলে পৌঁছে। সেসময় ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগে এবং তা গোটা লঞ্চে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ রক্ষায় অনেকেই নদীতে ঝাপ দেন।
ঝালকাঠি সদর থানার ওসি খলিলুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লঞ্চে পাঁচ শতাধিক যাত্রী থাকলেও আগুনে ৭০-৮০ জন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃতের সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেননি তিনি।
আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সদস্য ছাড়াও পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন ছুটে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় জনতা। ঘনকুয়াশার কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। আহত ৭০ জনকে উদ্ধারের পর ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উদ্ধারকাজ তদারকি করেন।
স্বজন হারানোর মানুষের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠে সুগন্ধা নদীর তীর। শুক্রবার সকাল থেকে নদী গাবখান ধানসিঁড়ি এলাকায় অগ্নিদগ্ধদের স্বজনরা ভিড় করেন। প্রিয় স্বজন বেঁচে আছেন না মরে গেছেন তা দেখতে মরদেহ রাখা নৌযানের চারপাশে ভিড় করছেন অনেকে। তাদের শান্তনা দিতে গিয়ে অনেকে কেঁদে ফেলেন।

স্থানীয় ট্রলার চালকরা জানিয়েছেন, তারা লঞ্চ ও নদী থেকে বেশ কিছু যাত্রীদের উদ্ধার করেছেন। লঞ্চের যাত্রী প্রাণে বেচে যাওয়া যাত্রী মো. মোহসীন জানিয়েছেন, রাত ৩ টার দিকে হঠাৎ নিচ থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। এরপর আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় তিনি ৩ তলা থেকে নদীতে লাফ দিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। শুক্রবার ভোর ৬ টা নাগাদ ঝালকাঠির কলেজ খেয়াঘাট এলাকায় নদী থেকে ১৩ বছরের এক কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। বেচে যাওয়া মা জানান, তারা ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠেন। কিন্তু আগুন লাগার পর মেয়েকে পাওয়া যায়নি।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভোর ৭টা নাগাদ ৬৬ জনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহতদের বরিশালে পাঠানো হয়েছে। ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বে থাকা বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, মোট ৫টি ইউনিট উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে। আগুন নিভানো হলেও উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছুই বলা যাচ্ছে না।



















