ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি, অপরাধ ও অবৈধ অর্থনৈতিক তৎপরতা সৌদিতে থাকা ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার পাসপোর্ট প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা দুই বছরের মধ্যে টাকা ফেরত পাবেন: গভর্নর মাঠে নামল না ক্রিকেটাররা, অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত বিপিএল ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে যশোর অঞ্চলে বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা শার্শা’র নাভারণে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিএনপির দোয়া মাহফিল ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে: মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা পানিতে ডুবে প্রতিদিন ৫১ জনের বেশি প্রাণহানি, ৭৫ শতাংশের বেশি শিশু সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দিকে রাজকীয় ক্ষমা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা দুই বছরের মধ্যে টাকা ফেরত পাবেন: গভর্নর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা দুই বছরের মধ্যে টাকা ফেরত পাবেন: গভর্নর

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লোকসানের কারণে অবলুপ্ত পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য কোনো মুনাফা পাবেন না। তবে আমানতকারীদের মূলধন সুরক্ষিত রয়েছে এবং আগামী দুই বছরের মধ্যেই তারা তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

বৃহস্পতিবার পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে গভর্নর এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বর্তমানে এসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা পুনর্গঠন ও আমানত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিবিড় তদারকি করছে।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “ব্যাংকগুলো লোকসানে থাকায় চলতি অর্থবছরে আমানতকারীদের মুনাফা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা এমন একটি কাঠামো নিয়ে কাজ করছি, যাতে দুই বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে আমানতকারীরা তাদের অর্থ ফেরত পান।” তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়ায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

ব্যাংকগুলোর অডিট প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, পাঁচটি ব্যাংকের ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর অডিট পরিচালনার সঙ্গে জড়িতদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিট সম্পন্ন করতে আরও প্রায় তিন মাস সময় প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।

ফরেনসিক অডিট শেষ হলে ব্যাংকগুলো থেকে কারা, কীভাবে এবং কত পরিমাণ অর্থ লুটপাট করেছে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন গভর্নর। তিনি বলেন, “যারা আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়ে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বোর্ড পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গুণগত ও সংখ্যাগত—উভয় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই পরিবর্তনে কেউ কেউ অসন্তুষ্ট হতে পারেন, তবে আর্থিক খাতের সুশাসন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা দুই বছরের মধ্যে টাকা ফেরত পাবেন: গভর্নর

আপডেট সময় : ০৮:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

লোকসানের কারণে অবলুপ্ত পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য কোনো মুনাফা পাবেন না। তবে আমানতকারীদের মূলধন সুরক্ষিত রয়েছে এবং আগামী দুই বছরের মধ্যেই তারা তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

বৃহস্পতিবার পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে গভর্নর এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বর্তমানে এসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা পুনর্গঠন ও আমানত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিবিড় তদারকি করছে।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “ব্যাংকগুলো লোকসানে থাকায় চলতি অর্থবছরে আমানতকারীদের মুনাফা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা এমন একটি কাঠামো নিয়ে কাজ করছি, যাতে দুই বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে আমানতকারীরা তাদের অর্থ ফেরত পান।” তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়ায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

ব্যাংকগুলোর অডিট প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, পাঁচটি ব্যাংকের ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর অডিট পরিচালনার সঙ্গে জড়িতদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিট সম্পন্ন করতে আরও প্রায় তিন মাস সময় প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।

ফরেনসিক অডিট শেষ হলে ব্যাংকগুলো থেকে কারা, কীভাবে এবং কত পরিমাণ অর্থ লুটপাট করেছে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন গভর্নর। তিনি বলেন, “যারা আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়ে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বোর্ড পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গুণগত ও সংখ্যাগত—উভয় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই পরিবর্তনে কেউ কেউ অসন্তুষ্ট হতে পারেন, তবে আর্থিক খাতের সুশাসন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।