ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এভারেস্টে বিষ-ফাঁদ :পর্যটকদের অসুস্থ বানিয়ে ১৫০ কোটি টাকার বিমা কেলেঙ্কারি গোপন তথ্য উন্মোচন সৌদিতে মার্কিন নজরদারি বিমান ধ্বংসের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস পুতিনের অ্যাকান্থুরিডি: বঙ্গোপসাগরে মিললো বিরল ব্রাউন সার্জনফিশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়:  রোববার থেকে ৯–৪ অফিস, ৬টার মধ্যে বন্ধ দোকানপাট হরমুজ প্রণালি সচল করতে ৪০ দেশের জোটের অঙ্গীকার ন্যাটো ছাড়ার হুমকি: ডোনাল্ড ট্রাম্প কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন?  জ্বালানি সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের  সিদ্ধিান্ত তদন্তে নতুন মোড়: গুমের পর ধলেশ্বরীতে ফেলা হয় ইলিয়াস আলীর মরদেহ জ্বালানি তেল: অরাজকতার নেপথ্যে কৃত্রিম সংকট ও দায়িত্বহীন নাগরিক

এভারেস্টে বিষ-ফাঁদ :পর্যটকদের অসুস্থ বানিয়ে ১৫০ কোটি টাকার বিমা কেলেঙ্কারি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৪৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে

পর্যটকদের অসুস্থ বানিয়ে ১৫০ কোটি টাকার বিমা কেলেঙ্কারি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হিমালয় অঞ্চলের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ কমিয়ে দেওয়ার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রও হতে পারে

হিমালয়ের অপরূপ সৌন্দর্য যেন অপরাধের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে

এভারেস্টের মতো মহিমান্বিত শৃঙ্গ, মাউন্ট এভারেস্ট, যা অভিযাত্রীদের স্বপ্নের প্রতীক, সেই স্থানকেই ঘিরে গড়ে উঠেছে এক ভয়াবহ প্রতারণার জাল।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র শুধু অর্থ লুটেই থেমে নেই, বরং আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

হিমালয় অঞ্চলে পরিচালিত এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা পরিকল্পিতভাবে বিদেশি পর্যটকদের খাবারে বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে অসুস্থ করে তোলে।

এরপর উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ভয় দেখিয়ে জরুরি হেলিকপ্টার উদ্ধারের নামে বিমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়।

এই প্রক্রিয়ায় জড়িত রয়েছে গাইড, হেলিকপ্টার অপারেটর, হাসপাতাল এবং ল্যাবরেটরির একটি অংশ, যা পুরো ঘটনাকে একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্রের রূপ দিয়েছে।

নেপাল পুলিশ-এর সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৭৮২ জন আরোহী এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

প্রায় ৩০০টির বেশি ভুয়া উদ্ধার অভিযানের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫০ কোটির বেশি, জালিয়াতি করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে ৩৩ জন সন্দেহভাজনের তালিকা তৈরি করে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই ঘটনা শুধু আর্থিক অপরাধ নয়, এটি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আস্থার ওপর বড় ধরনের আঘাত। নেপাল-এর পর্যটন শিল্প, যা মূলত হিমালয় ও এভারেস্টকেন্দ্রিক, এখন গুরুতর ঝুঁকির মুখে।

আন্তর্জাতিক বিমা কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে দেশটিকে তাদের কাভারেজ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে পর্যটন খাতে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল কিছু প্রতারকের কাজ নয়, বরং হিমালয় অঞ্চলের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ কমিয়ে দেওয়ার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রও হতে পারে।

কারণ, নিরাপত্তাহীনতার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বাভাবিকভাবেই পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নেবেন এই অঞ্চল থেকে।

এই প্রেক্ষাপটে নেপাল টুরিজম বোর্ড প্রতিটি উদ্ধার অভিযান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের ঘোষণা দিয়েছে এবং পর্যটকদের গাইড ও ট্রেকিং কোম্পানি নির্বাচনে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

হিমালয়ের অপরূপ সৌন্দর্য যেন অপরাধের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে, এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এভারেস্টে বিষ-ফাঁদ :পর্যটকদের অসুস্থ বানিয়ে ১৫০ কোটি টাকার বিমা কেলেঙ্কারি

আপডেট সময় : ০২:৪৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

হিমালয় অঞ্চলের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ কমিয়ে দেওয়ার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রও হতে পারে

হিমালয়ের অপরূপ সৌন্দর্য যেন অপরাধের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে

এভারেস্টের মতো মহিমান্বিত শৃঙ্গ, মাউন্ট এভারেস্ট, যা অভিযাত্রীদের স্বপ্নের প্রতীক, সেই স্থানকেই ঘিরে গড়ে উঠেছে এক ভয়াবহ প্রতারণার জাল।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র শুধু অর্থ লুটেই থেমে নেই, বরং আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

হিমালয় অঞ্চলে পরিচালিত এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা পরিকল্পিতভাবে বিদেশি পর্যটকদের খাবারে বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে অসুস্থ করে তোলে।

এরপর উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ভয় দেখিয়ে জরুরি হেলিকপ্টার উদ্ধারের নামে বিমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়।

এই প্রক্রিয়ায় জড়িত রয়েছে গাইড, হেলিকপ্টার অপারেটর, হাসপাতাল এবং ল্যাবরেটরির একটি অংশ, যা পুরো ঘটনাকে একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্রের রূপ দিয়েছে।

নেপাল পুলিশ-এর সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৭৮২ জন আরোহী এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

প্রায় ৩০০টির বেশি ভুয়া উদ্ধার অভিযানের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫০ কোটির বেশি, জালিয়াতি করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে ৩৩ জন সন্দেহভাজনের তালিকা তৈরি করে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই ঘটনা শুধু আর্থিক অপরাধ নয়, এটি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আস্থার ওপর বড় ধরনের আঘাত। নেপাল-এর পর্যটন শিল্প, যা মূলত হিমালয় ও এভারেস্টকেন্দ্রিক, এখন গুরুতর ঝুঁকির মুখে।

আন্তর্জাতিক বিমা কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে দেশটিকে তাদের কাভারেজ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে পর্যটন খাতে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল কিছু প্রতারকের কাজ নয়, বরং হিমালয় অঞ্চলের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ কমিয়ে দেওয়ার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রও হতে পারে।

কারণ, নিরাপত্তাহীনতার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বাভাবিকভাবেই পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নেবেন এই অঞ্চল থেকে।

এই প্রেক্ষাপটে নেপাল টুরিজম বোর্ড প্রতিটি উদ্ধার অভিযান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের ঘোষণা দিয়েছে এবং পর্যটকদের গাইড ও ট্রেকিং কোম্পানি নির্বাচনে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

হিমালয়ের অপরূপ সৌন্দর্য যেন অপরাধের ছায়ায় ঢাকা না পড়ে, এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।