পদ্মা সেতু রেলসংযোগ দিয়ে ‘ট্রয়াল ট্রেন’ কলকাতার পথ অর্ধেক এগুলো
- আপডেট সময় : ০৮:০১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৫৫ বার পড়া হয়েছে
বাড়ির ছাদে, রাস্তায়, ক্ষেতে-খামারে কারখানায় দাঁড়িয়ে মানুষ করতালি দিয়ে অহংকার প্রকাশ করে। ট্রেনের হুইসেল শুনে অনেক মা ছোট্ট সন্তানটিকে বুকে আকড়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে আসেন এবং একমুখ হাসি দিয়ে নতুন অতিথিকে অভিনন্দন জানান। বিপুল সংখ্যক মানুষ রেললাইনের দুই পাশে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। আসা-যাওয়ার পথে একই দৃশ্য বলে দেয় বঙ্গবন্ধু ডাকে এই বাঙালি ঘর ছেড়েছিল
আমিনুল হক, ভাঙ্গা থেকে ফিরে
বাংলাদেশের মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু রেলসংযোগ দিয়ে পরীক্ষামূলক ট্রেনচলাচল সম্পন্ন হল। সেই সঙ্গে কলকাতা অভিমুখে অর্ধেক পথ এগুলো রেল। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পটি একটি আন্ত:দেশীয় যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলপথের উদ্বোধন করবেন। এরপর এক সপ্তাহ পর শুরু হবে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল। ফরিদপুর অঞ্চলে চলাচলকারী মধুমতি ট্রেনটি ঢাকা পর্যন্ত চলাচলের চিন্তা করছে রেলভবন।

উত্তাল পদ্মায় নিজ অর্থায়নে পদ্মা নির্মাণ হয়েছে শেখ হাসিনার হাত ধরে। তারপর রেলসংযোগও চালু হয়ে গেল। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়নে যোগ হল আরও একটি পালক।
আন্ত:দেশীয় এই রেলসংযোগটি দিয়ে মোংলা বন্দর থেকে কোন পণ্যবাহী ট্রেন সরাসরি চলে যাবে ত্রিপুরা, আসামসহ ভারতের উত্তরপূর্ব রাজ্যে। এই বাধাহীন চলাচল সময় সাশ্রয়ী পণ্যপরিবহন তরান্বিত করবে। উভয় দেশের বাণিজ্যে যোগ হবে নতুন মাত্রা। আগামী বছর থেকে ঢাকা-কলকাতার মধ্যে মাত্র সাড়ে ৪ঘন্টায় যাতায়ত করা সম্ভব হবে। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গ থেকে পণ্যবাহীন ট্রেন সরাসরি ভারতের উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলোতে পরিবাহিত করা যাবে।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৮২ কিলোমিটার রেলপথের কাজ প্রায় সম্পন্ন। সেই পথে বৃহস্পতিবার ট্রায়ালরান সম্পন্ন করলো রেলমন্ত্রক। ভাঙ্গায় ব্রিফিংয়ে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানালেন, সারাদেশে ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণের পাশাপাশি ইলেট্রিক ট্রেনের চিন্তাও করছে রেলমন্ত্রক।

ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ কাজ সম্পন্নর পর সফল ট্রয়াল রান হল। এই প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের জুনে শেষ হবে। তার আগেই অর্ধেক রেলপথে ট্রায়াল রান সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে আরও একধাপ এগুলো রেলমন্ত্রক। প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যশোর পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হবার আশা করেন রেলপথমন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ এই রেল ব্যবস্থার সুফলভোগী হবেন।
এলাকার সাধারণ মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আজ ভাঙ্গায় ট্রেন এসেছে, তাতে আমরা কতটা খুশি তা বোঝাতে পারবনা। তারা কোন দিন ভাবেনি এই জায়গায় ট্রেন আসবে। এর আগে ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ট্রেনটি ভাঙ্গার পথে ছেড়ে যাবার সময় রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ করতালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
বাড়ির ছাদে, রাস্তায়, ক্ষেতে-খামারে কারখানায় দাঁড়িয়ে মানুষ করতালি দিয়ে অহংকার প্রকাশ করে। ট্রেনের হুইসেল শুনে অনেক মা ছোট্ট সন্তানটিকে বুকে আকড়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে আসেন এবং একমুখ হাসি দিয়ে নতুন অতিথিকে অভিনন্দন জানান। বিপুল সংখ্যক মানুষ রেললাইনের দুই পাশে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। আসা-যাওয়ার পথে একই দৃশ্য বলে দেয় বঙ্গবন্ধু ডাকে এই বাঙালি ঘর ছেড়েছিল।
সেই পুরষ্কার আজ এনে দিলেন তারই কন্যা শেখ হাসিনা। পরীক্ষামূলক এই ট্রেনে সঙ্গী হয়েছেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদস্য এবং সংবামাধ্যমকর্মীরা।



















