ত্রিদেশীয় স্থলবন্দর বুড়িমারীতে স্থান সংকটে দুর্ভোগ
- আপডেট সময় : ০৭:৫১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মার্চ ২০২৩ ২৩৪ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
ত্রিদেশীয় বাণিজ্যের অন্যতম বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর বুড়িমারী। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় ১৯৮৮ সালে স্থলবন্দরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর জৌলুস বাড়তে থাকে এ স্থল বন্দরের। পণ্যবোঝাই শ’ শ’ ট্রাক আর হাজারো যাত্রী বন্দরটি ব্যবহার করেন। বন্দরের ইয়ার্ডে স্থান সংকটের পাশাপাশি মহাসড়ক প্রশস্ত না হওয়ায় বন্দর ঘিরে পণ্যবাহী ট্রাকের যানজট দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, ভুটান ও নেপাল থেকে কয়লা,পাথর, সিমেন্ট, পশুখাদ্য, ফলমূল, পেঁয়াজ, চাল, গম ও ভুট্টা আমদানি করা হয়। রপ্তানি হচ্ছে খাদ্যসামগ্রী, ঝুট কাপড়, ওষুধপত্রসহ বিভিন্ন পণ্য।
ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত-ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ার সঙ্গে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। স্বাভাবিক কারণেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পণ্যবাহী ট্রাকগুলো জায়গার অভাবে ইয়ার্ডে ঢুকতে পারছে না। লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে অবস্থানের কারণে মালামাল খালাস করা ট্রাকগুলো বের হতে পারছে না। এ কারণে জিরো পয়েন্ট থেকে কয়েক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে যানজট নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে ট্রাকচালক, পাসপোর্টধারী যাত্রীসহ সাধারণ মানুষের।
বুড়িমারী স্থল বন্দরের পাশে আরও একটি ইয়ার্ড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ২৯ কোটি টাকা অর্থায়নে বুড়িমারী স্থলবন্দর জিরোপয়েন্ট থেকে বুড়িমারী বাজার পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের ১০ কিলোমিটার রাস্তা চার লেনে উন্নীত করতে এরই মধ্যে এডিবির বিশেষজ্ঞ দল সমীক্ষা কার্যক্রম শেষ করেছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশন হয়ে কামারহাট ও বুড়িমারী ঘুণ্টি বাজারে বাইপাস সড়ক নির্মাণ হলে যানজটমুক্ত হবে।
স্থলবন্দরের তিনটি শেডের ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৭৬৮ মেট্রিক টন এবং তিনটি ওপেন স্টাক ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ৬ হাজার ২০৩ মেট্রিক টন। সময়মতো খালাস না হওয়ায় ওপেন স্টাক ইয়ার্ডে পণ্যবাহী ট্রাককে দুই থেকে তিনদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
বর্তমানে প্রতিদিন ৫০০-৬০০টি ট্রাক বন্দরে আসা-যাওয়া করে। এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কিন্তু মহাসড়কটি প্রশস্ত না হওয়ায় ট্রাকগুলো স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রের ঢাকা থেকে বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত চার লেন মহাসড়ক নির্মাণকাজের দ্বিতীয় পর্যায় চলমান রয়েছে। সেই সঙ্গে স্থলবন্দর থেকে রংপুর শহর পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। রংপুর-বুড়িমারী স্থলবন্দর জাতীয় মহাসড়ক চার লেন কার্যক্রম ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে তা পিছিয়ে গেছে।




















