টেরাকোটার ক্যানভাসে বাঙালির গৌরবগাঁথা
- আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ৪৩৯ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
টেরাকোটার ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনসহ পরবর্তী ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান। ৭০ এর নির্বাচন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চা বাগানে গণহত্যা। অদম্য সাহসী যোদ্ধা সর্বকনিষ্ঠ বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি শহীদ হামিদুর রহমানের যুদ্ধের গল্প।
একাত্তরে ২৫ মার্চ কালোরাত্রিরে প্রথম আঘাতটা আছড়ে পড়েছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইনে। দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বুঝেছিলো, বাজারবাগ পুলিশ লাইনকে আক্রমণের বাইরে রেখে ঢাকায় অন্যান্য অপারেশন চালানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
তাই রাজারবাগের প্রতিহতের মুখে পড়তে হয়েছিল তাদের।
সেদিন পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্য প্রাণ উৎসর্গ করেন। যাদের রক্তের ধারাবাহিকতায় ন’মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীণতা অর্জন করে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অগণিত মানুষ প্রান হারিয়েছেন। নাম না জানা শহীদদের ম্রদ্ধা স্মরণ করে বাংলাদেশের মানুষ।
স্বাধীনতার স্মৃতিকে ধারণ করে বহু স্থাপনায় নানা চিত্রকল্প ফুটে ওঠছে। দেয়ালে এবং ববনের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতার নানা কর্মকাণ্ডের চিত্র মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মৌলভীবাজার পুলিশ লাইনে উপস্থাপিত হচ্ছে টেরাকোটায় বাঙালির গৌরবগাথা। বাঙালি জাতির আন্দোলন ও সংগ্রামগুলো এখানে প্রতীকী অভিব্যক্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে।
এই টেরাকোটাতেই জাগ্রত হয়েছে সংগ্রামী চেতনাবোধ। শিল্পীর শৈল্পিক ছোঁয়ায় টেরাকোটার ফ্রেমে নির্মাণশৈলীর দিক দিয়ে স্থাপনাটি এক অনন্য নিদর্শন।
নির্মিত টেরাকোটার দৈর্ঘ্য ৬০ ফুট ও প্রস্থ ৫ ফুট। কোনোটা বড় আকারের মুখোশ, কোনোটা নারীর গড়ন। মধ্যখানে বড় পরিসরে নির্মিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তেজোদ্দীপ্ত তর্জনী।
মৌলভীবাজার হানাদারমুক্ত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর। দিবসটি শীতের সকালে বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে যোদ্ধারা। দীর্ঘ প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, আন্দোলন এবং স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত নয় মাসের লড়াইয়ে বিজয় উল্লাসের দৃশ্যপট জীবন্ত হয়ে ধরা দিয়েছে।
টেরাকোটার ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনসহ পরবর্তী ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান। ৭০ এর নির্বাচন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চা বাগানে গণহত্যা। অদম্য সাহসী যোদ্ধা সর্বকনিষ্ঠ বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি শহীদ হামিদুর রহমানের অসম সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধের কাহিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পুলিশ যে জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন আমাদের স্বাধীনতার প্রথম দিকে রাজারবাগ থেকে শুরু মহাকাব্যগুলো এই স্মরণীয় টেরাকোটার কাঠামোতে ফুটে উঠেছে।
টেরাকোটার কাজটি করছেন শিল্পী আহসান আহমেদ। অসাধারণ কাজের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে বাংলাদেশের বিবর্তন ও পরিবর্তনের ঐতিহাসিক এই মুহূর্তগুলো।
সম্প্রতি দেখা যায়, পুলিশ লাইনের মূল ফটকের উত্তর দিকে সবুজ ও সতেজতায় ল্যান্ডস্কেপে কংক্রিটের সেটে লম্বাকৃতির একটি সংমিশ্রণ, পোড়ামাটির ম্যুরাল এবং কংক্রিটের গ্রাফিক্যাল ভাস্কর্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের তেজোদীপ্ত ভাষণের কারুকার্য, স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ দেশমাতৃকার বীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের সময়ের সুচারু অবয়ব।

এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রাইফেল হাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার নজরকাড়া বিপ্লবী ভঙ্গিমা। ধারাবাহিকভাবে ধরা দিয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসের দৃশ্যপট। দূর থেকে দেখলে মনে হয় খোলা আকাশের নিচে বীর সৈনিক বিজয়ীর বেশে নির্ভীক প্রহরীর মতো স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে।
পুলিশ সুপার মো. মনজুর রহমান বলেন, পুলিশ সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে আমাদের এই প্রচেষ্টা। আগামী সপ্তাহের মধ্যে পুরো কাজটি সম্পন্ন হবে। এরপর এটি উদ্বোধন করা হবে। এমন স্থাপত্যের মাধ্যমে শুধু পুলিশ সদস্যরা নয়, দর্শনার্থীরাও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস এবং পূর্ববর্তী ঘটনাবলি সম্পর্কে জানতে পারবে।

















