ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করছে সরকার: শফিকুল আলম ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা জনগণের রায়ে শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে আসতে পারেন বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো ধর্ম-বর্ণ বিবেচনা করবে না : তারেক রহমান মৎস্যসম্পদ আমাদের সামগ্রিক জীবনবোধের অংশ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ঢাকায় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা: ৩৮ দেশের কূটনীতিক অংশগ্রহণ এপস্টেইন ফাইল: এক বিতর্কিত কিশোরী যৌন পাচারের নথি এবং মার্কিন রাজনীতির প্রভাব হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রবিবার জাতিসংঘে চিঠি পাঠাবে সরকার ঢাকার শাহবাগে পুলিশ-ইনকিলাব মঞ্চ সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত জাপানের সঙ্গে প্রথম ইপিএ সই: শুল্কমুক্ত বাজারে ৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ

জনগণের রায়ে শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে আসতে পারেন

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৪১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

জনগণের রায়ে শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে আসতে পারেন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জনগণের সমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা থাকলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র সন্তানরাও দেশে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কে রাজনীতি করবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই ন্যস্ত।

শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে ফিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, যদি কাউকে মানুষ গ্রহণ করে এবং জনগণ তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নে জনসমর্থন ও গণতান্ত্রিক বৈধতাকেই প্রধান বিবেচ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়।

একই সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের পর সম্ভাব্য ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব তিনি নাকচ করেন। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সরকার গঠন করলে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কিভাবে আমি সরকার গঠন করি, তাহলে বিরোধী দল কে হবে? এমন প্রশ্ন তুলে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দলের স্বতন্ত্র ভূমিকার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে দলটি আত্মবিশ্বাসী। তবে সম্ভাব্য আসনসংখ্যা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি। দলীয় সূত্রের মতে, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভের লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। দলটি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে; বাকি আসনগুলোতে জোটসঙ্গীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে একক কোনো দেশের দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা নাকচ করে তারেক রহমান বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে অগ্রাধিকার। “আমরা যদি সরকারে থাকি, তাহলে আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে বিনিয়োগ আনতে হবে, যাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং মানুষ উন্নত জীবনযাপন করতে পারে, বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে যে দেশ বা অংশীদার জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই সহযোগিতা গড়ে তোলা হবে। নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে একচেটিয়া অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বার্থভিত্তিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেন তিনি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে এবং তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো বিচারাধীন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, সম্ভাব্য জোট-সমীকরণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জনগণের রায়ে শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে আসতে পারেন

আপডেট সময় : ০৫:৪১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জনগণের সমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা থাকলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র সন্তানরাও দেশে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কে রাজনীতি করবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই ন্যস্ত।

শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে ফিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, যদি কাউকে মানুষ গ্রহণ করে এবং জনগণ তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নে জনসমর্থন ও গণতান্ত্রিক বৈধতাকেই প্রধান বিবেচ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়।

একই সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের পর সম্ভাব্য ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব তিনি নাকচ করেন। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সরকার গঠন করলে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কিভাবে আমি সরকার গঠন করি, তাহলে বিরোধী দল কে হবে? এমন প্রশ্ন তুলে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দলের স্বতন্ত্র ভূমিকার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে দলটি আত্মবিশ্বাসী। তবে সম্ভাব্য আসনসংখ্যা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি। দলীয় সূত্রের মতে, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভের লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। দলটি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে; বাকি আসনগুলোতে জোটসঙ্গীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে একক কোনো দেশের দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা নাকচ করে তারেক রহমান বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে অগ্রাধিকার। “আমরা যদি সরকারে থাকি, তাহলে আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে বিনিয়োগ আনতে হবে, যাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং মানুষ উন্নত জীবনযাপন করতে পারে, বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে যে দেশ বা অংশীদার জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই সহযোগিতা গড়ে তোলা হবে। নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে একচেটিয়া অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বার্থভিত্তিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেন তিনি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে এবং তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো বিচারাধীন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, সম্ভাব্য জোট-সমীকরণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।