গুমের অভিযোগে ঐতিহাসিক মোড়: শেখ হাসিনা ও ১২ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরুর নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০৭:০১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৯০ বার পড়া হয়েছে
জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি)–এ সংঘটিত গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক–বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়ার পর এই আদেশকে বিচারিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে জেআইসি গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনা ও সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি সম্পন্ন হয়। ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে আদেশের জন্য ১৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। এরও আগে, গত ৯ ডিসেম্বর মামলার শুনানির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার শাইখ মাহদী। আসামিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, মাহিন এম রহমান, মাসুদ সালাউদ্দিন ও মো. আমির হোসেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে একাধিক ব্যক্তিকে গুম করার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. আকবর হোসেন, মো. সাইফুল আবেদিন, মো. সাইফুল আলম, আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, হামিদুল হক, মখছুরুল হক, মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, কবীর আহাম্মদ, শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও আহমেদ তানভির মাজহার সিদ্দিকী। এদের মধ্যে শেষ তিনজন বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন।
গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে দেশে জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।



















