ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিজ মাটিতে হোয়াইট ওয়াস বাংলাদেশের
- আপডেট সময় : ০২:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯৩ বার পড়া হয়েছে
দাপুটে লালসবুজের আলোয় আলোকিত সেন্ট ভিনসেন্ট
ফ্রেমে বাঁধাই করে রাখার মতো এক ছবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাঁদেরই মাটিতে ধবলধোলাইয়ের পর হাসিমুখে যেন নতুন এক বাংলাদেশ
বাংলাদেশের পূর্ণশক্তির টি-টোয়েন্টি দল নয়। সাকিব আল হাসান নেই, তাওহিদ হৃদয় ও মোস্তাফিজুর রহমানও নেই। কিন্তু বিশপদের দলটা পূর্ণ শক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যা ঙ্কিংয়ে চতুর্থ। এমন একটা দলকে তাঁদেরই মাঠে ৩-০ তে ধবলধোলাই করল কি না, পুরো শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামতে না পারা র্যাঙ্কিংয়ে নবম বাংলাদেশ! লম্বা লাইনটি হজম করা শেষ হলে দয়া করে একবার পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখুন।
বাংলাদেশের বৃহস্পতি তুঙ্গে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখন ধুঁকছে। ৪৮ বলে পেরোতে হবে ১০৮ রানের পর্বত। হাতে মাত্র ৪ উইকেট থাকায় লক্ষ্যটা সেন্ট ভিনসেন্টের শীর্ষ চূড়া লা সুফিয়েরের চেয়েও দূর্লঙ্ঘ্য মনে হচ্ছিল। ধারাভাষ্যকক্ষে ইয়ান বিশপ তখন মাইক্রোফোন হাতে। অনেকটাই বক্তৃতার সুরে যা বললেন তার সারসংক্ষেপ এমন, বাংলাদেশের এই দলটাই ভবিষ্যত। প্রতিভার ছড়াছড়ি। বোলিং ইউনিটটি অবিশ্বাস্য। কোচ ফিল সিমন্সকে সময় দিন। ভাবুন, এগোতে চাইলে এটাই ভিত। এখন না হলে আর কখনোই নয়!
ভাবুন, এমন বাংলাদেশকেই দেখতে চায় কি না, বাংলাদেশ ক্রিকেট! যাঁরা, যে কোনো পরিস্থিতি থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে যেমন মরিয়া, তেমনি সুযোগ পেলে প্রথম ইনিংসেই প্রতিপক্ষকে স্রেফ খুন করে ফেলতে পারে!
জাকেরের এই ৪১ বলে ৭২ আসলে হোয়েন অ্যা ম্যান বিকামস সুপারম্যান। আর বোলারদের অবিশ্বাস্য বোলিং আসলে ক্যারিবিয়ান সুপারম্যানসুলভ ব্যাটসম্যানদের বুদ্ধিমান মানুষের কাছে হেরে যাওয়ার এক হিরণ্ময় উদাহরণ। আর সেই উদাহরণ তৈরি করেই টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো তিন ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করল বাংলাদেশ।
সেন্ট ভিনসেন্টের এই আর্নস ভেলেই প্রথম ম্যাচে ১৪৭ তুলে ৭ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পুরো ২০ ওভার খেলতে দেয়নি। হাসান মাহমুদ শেষ ওভারে ১০ রান দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জিতেছেন আবারও। এই মাঠেই পরের ম্যাচে ১২৯ তুলে বাংলাদেশ জিতেছে ২৭ রানে। এবারও পুরো ২০ ওভার খেলতে পারেনি স্বাগতিকেরা।
ভাবা যায়! বোলারদের কী অবিশ্বাস্য সম্মিলিত পারফরম্যান্স! আপনি বলবেন, দুটি ম্যাচের উইকেটই ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন ছিল। সে তো বটেই। তবে একই উইকেটে কিন্তু বাংলাদেশও ব্যাটিং করেছে, বোলিংও। পার্থক্য ছিল ওই কথাটির স্বার্থক প্রয়োগে, বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচাগ্র মেদিনী।
ক্যারিবিয়ান সেই মেদিনীকে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানেরা স্রেফ পুড়িয়ে দিয়েছেন আজ তৃতীয় ম্যাচে। সেই আর্নস ভেলেই আজ ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট একটু সহজ ছিল। মানে কিছুটা ব্যাটিংবান্ধব। প্রতিপক্ষের কন্ডিশন কাজে লাগাতে না পারার যে চিরায়ত আক্ষেপ এই দেশের ক্রিকেটে, সেটা আজ জাকের আলীর ব্যাটিং দেখে মনেই হয়নি। মনে হয়নি পারভেজের ২ ছক্কায় ২১ বলে ৩৯ দেখেও। বিশপ বলছিলেন, এই ছেলে পাওয়ারে বিশ্বাসী। আর জাকের? ধারাভাষ্যকার স্যামুয়েল বদ্রি জাকেরের ব্যাটিংকে সারসংক্ষেপ করেছেন সবচেয়ে ভালো—‘দ্য ক্যারিবিয়ান ক্রিপ্টোনাইট শো।

জাকেরের ৪১ বলে অপরাজিত ৭২ আসলেই সুপারম্যানসুলভ ইনিংস। তবে চরিত্রটা যে মানুষেরই তৈরি, আর কে না জানে মানুষের অসম্ভব বলে কিছু নেই। আর্নস ভেলের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭ উইকেটে ১৮৯ ওঠার পর বাংলাদেশের বোলাররাও যেন অমন অদম্য রক্তমাংসের বুদ্ধিমান মানুষেই হয়ে উঠেছিলেন। ব্যাটিংবান্ধব এই উইকেটে একটি-দুটি জুটি টিকে গেলে এই রানও কিছু মনে হবে না, জানতেন তাঁরা। তাই ফাঁসটা কোনোভাবেই কেউ আলগা করেননি।
তাসকিন বরাবরের মতোই তাঁর প্রথম ওভারে ব্রেক-থ্রু এনে দেওয়ার পর মেহেদী হাসান দ্বিতীয় ওভারেই হেনেছেন আঘাত। ফল? ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২ ওভারে ২ উইকেটে ৭। চেপে ধরার এই ভিতটা পেয়ে যাওয়ার পর তৃতীয় ও চতুর্থ ওভারে মোট ২১ রান তুলে ফাঁস আলগা করার চেষ্টা করেছিলেন পুরান-চার্লস। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে আবারও মেহেদীতে আউট পুরান, এবার বোল্ড। পরের ওভারে তিন বলের মধ্যে আউট চেজ ও জনসন চার্লস। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৪৭। এরপর ম্যাচের ভাগ্যটা যেন নির্ধারিতই হয়ে গিয়েছিল।



















