আইনি রায় ও রাজনৈতিক সমীকরণে ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির অনিশ্চয়তা
- আপডেট সময় : ০১:১০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন বাণিজ্য নীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে ডোনাল ট্রাম্পের এর শুল্ক উদ্যোগকে ঘিরে। এক ঐতিহাসিক রায়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের একতরফাভাবে আরোপিত তথাকথিত ‘পাল্টা শুল্ক’কে অবৈধ ঘোষণা করেছে।
আদালত স্পষ্ট করে জানায়, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (IEEPA) প্রেসিডেন্টকে সরাসরি শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রদান করে না। এর ফলে নির্বাহী ক্ষমতার সীমা পুনর্নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপিত হয়েছে।
রায়ের পর প্রশাসন দ্রুত বিকল্প আইনি ভিত্তি খুঁজে নেয়। ১৯৭৪ সালের ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট–এর ১২২ ধারা ব্যবহার করে প্রথমে ১০ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্টের ভাষ্যে এটি পূর্বের তুলনায় আরও শক্তিশালী” পদক্ষেপ হলেও বাস্তবতায় এই ধারার প্রয়োগ নানা সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ।
১২২ ধারায় সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা যায় এবং তা কার্যকর থাকে মাত্র ১৫০ দিন। সময়সীমা অতিক্রম করলে কংগ্রেসের অনুমোদন আবশ্যক। তদুপরি, আন্তর্জাতিক লেনদেনে গুরুতর ভারসাম্যহীনতার প্রমাণ উপস্থাপন করা এই ধারার একটি শর্ত, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। কংগ্রেসে বিভক্ত রাজনৈতিক সমীকরণ এবং রিপাবলিকানদের ভেতরকার মতপার্থক্যও মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
বিচার বিভাগীয় পর্যবেক্ষণে প্রেসিডেন্টের একচ্ছত্র ক্ষমতার পরিবর্তে কংগ্রেসের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অংশীদাররা এখন বুঝতে পারছে, এই শুল্কব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি নাও হতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনাগত চাপ বা লেভারেজ তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি আইনি সীমা, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জটিল সমীকরণে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নির্বাহী ক্ষমতা বনাম আইনপ্রণেতা কর্তৃত্বের এই দ্বন্দ্ব আগামী দিনে মার্কিন বাণিজ্যনীতির দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



















