ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

World Ijtema : বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে ভারতের বিপুল সংখ্যক মুসল্লির আগমন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৩ ২৫৯ বার পড়া হয়েছে

আখাউড়া চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে ভারত থেকে আসা মুসল্লিদের একাংশ : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে ভারতের আসাম রাজ্যে থেকে আসা মাওলানা আব্দুল করিম আবেগ-আপ্লুত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের আতিথেয়তায় তারা মুগ্ধ। এই আপ্যায়ন ও সহযোগিতা তাদের চিরদিন মনে থাকবে।

বিশ্ব ইজতেমা বা বিশ্ব ইজতিমা, প্রতিবছর সাধারণত বৈশ্বিক যেকোনো বড় সমাবেশ, কিন্তু বিশেষভাবে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক বৈশ্বিক সমাবেশ, যা বাংলাদেশের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তাবলিগ জামাতের এই সমাবেশটি বিশ্বে সর্ববৃহৎ, এবং এতে অংশগ্রহণ করেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। সাধারণত প্রতিবছর শীতকালে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়ে থাকে, এজন্য ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাসকে বেছে নেয়া হয়।

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

ঢাকায় ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জমায়েত ‘বিশ্ব ইজতেমায়’ যোগ দিতে ভারতের উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলো থেকে ২২০জন আখাউড়া চেকপোষ্ট দিয়ে বাংলাদেশে পৌছেছেন। বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে ভারতের আসাম রাজ্যে থেকে আসা মাওলানা আব্দুল করিম আবেগ-আপ্লুত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের আতিথেয়তায় তারা মুগ্ধ। এই আপ্যায়ন ও সহযোগিতা তাদের চিরদিন মনে থাকবে।

বিশ্ব ইস্তিমার একাংশ : ফাইল ছবি

ঢাকা মেট্রোপলিটান সিটির লাগোয়া ঐতিহাসিক তুরাগ নদের তীরে ১৬০ একর জায়গা বিস্তৃত ময়দানে বিশাল শামিয়ানা টাঙ্গিয়ে বিশ্ব ইস্তেমার আয়োজন করা হয়। ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহরানপুর এলাকায় ইসলামী দাওয়াত তথা তাবলিগের প্রবর্তন করেন এবং একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক সম্মিলন বা ইজতেমারও আয়োজন করে। বিশ্বের প্রায় ৫৫টি দেশের মুসল্লিরা বিশ্ব ইস্তেমায় যোগ দেন।

বাংলাদেশে ১৯৫০-এর দশকে তাবলিগ জামাতের প্রচলন করেন মাওলানা আবদুল আজিজ। বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় মারকাজ বা প্রধান কেন্দ্র কাকরাইল মসজিদ থেকে এই সমাবেশ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করা হয়। মুসল্লিদের সুবিধার জন্য তুরাগ নদে পন্টুন সেতু তৈরি করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বিশাল ময়দানে স্বেচ্ছাশ্রমে হাজারো মুসল্লি সামিয়ানা টাঙ্গনো থেকে শুরু করে নানা কাজে হাত লাগান।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তরফে ১২টি নলকূপ, ১২ কিলোমিটার পাইপলাইন, সাড়ে ৮ হাজার অস্থায়ী টয়লেট, ব্যবস্থা রয়েছে। ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ ও ২৫টি ফগার মেশিনে মশক নিধনেরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর নিকটবর্তী গাজীপুরে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আগামী ১৩ জানুয়ারি থেকে ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্ত হবে। মাঝে ৪ দিনের বিরতির পর ২০ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা।

বিশ্ব ইস্তিমায় যোগ দেওয়া মুসল্লিদের একাংশ : ফাইল ছবি

স্থান সংকুলান না হওয়া দুই ধাপে বিশ্ব ইস্তেমার আয়োজন করা হয়। আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি মেহমানদের অভ্যর্থনা জানানো, থাকা-খাওয়া ও ঢাকায় পাঠানোসহ সব কাজ দ্রুত করার জন্য তাবলিগ জামায়াতের ঢাকার কাকরাইল মসজিদ থেকে একটি প্রতিনিধি দল আখাউড়া স্থলবন্দরে অবস্থান করছেন।

তারা প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত আগত মুসল্লিদের সার্বিক সহযোগিতা করবেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের তরফে থেকেও স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন এলাকায় বিদেশি মেহমানদের খাবার দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছেন। প্রতিদিনই সকাল থেকে স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ আগত মুসল্লিদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

World Ijtema : বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে ভারতের বিপুল সংখ্যক মুসল্লির আগমন

আপডেট সময় : ০৯:০৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৩

বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে ভারতের আসাম রাজ্যে থেকে আসা মাওলানা আব্দুল করিম আবেগ-আপ্লুত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের আতিথেয়তায় তারা মুগ্ধ। এই আপ্যায়ন ও সহযোগিতা তাদের চিরদিন মনে থাকবে।

বিশ্ব ইজতেমা বা বিশ্ব ইজতিমা, প্রতিবছর সাধারণত বৈশ্বিক যেকোনো বড় সমাবেশ, কিন্তু বিশেষভাবে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক বৈশ্বিক সমাবেশ, যা বাংলাদেশের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তাবলিগ জামাতের এই সমাবেশটি বিশ্বে সর্ববৃহৎ, এবং এতে অংশগ্রহণ করেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। সাধারণত প্রতিবছর শীতকালে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়ে থাকে, এজন্য ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাসকে বেছে নেয়া হয়।

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

ঢাকায় ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জমায়েত ‘বিশ্ব ইজতেমায়’ যোগ দিতে ভারতের উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলো থেকে ২২০জন আখাউড়া চেকপোষ্ট দিয়ে বাংলাদেশে পৌছেছেন। বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে ভারতের আসাম রাজ্যে থেকে আসা মাওলানা আব্দুল করিম আবেগ-আপ্লুত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের আতিথেয়তায় তারা মুগ্ধ। এই আপ্যায়ন ও সহযোগিতা তাদের চিরদিন মনে থাকবে।

বিশ্ব ইস্তিমার একাংশ : ফাইল ছবি

ঢাকা মেট্রোপলিটান সিটির লাগোয়া ঐতিহাসিক তুরাগ নদের তীরে ১৬০ একর জায়গা বিস্তৃত ময়দানে বিশাল শামিয়ানা টাঙ্গিয়ে বিশ্ব ইস্তেমার আয়োজন করা হয়। ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহরানপুর এলাকায় ইসলামী দাওয়াত তথা তাবলিগের প্রবর্তন করেন এবং একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক সম্মিলন বা ইজতেমারও আয়োজন করে। বিশ্বের প্রায় ৫৫টি দেশের মুসল্লিরা বিশ্ব ইস্তেমায় যোগ দেন।

বাংলাদেশে ১৯৫০-এর দশকে তাবলিগ জামাতের প্রচলন করেন মাওলানা আবদুল আজিজ। বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় মারকাজ বা প্রধান কেন্দ্র কাকরাইল মসজিদ থেকে এই সমাবেশ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করা হয়। মুসল্লিদের সুবিধার জন্য তুরাগ নদে পন্টুন সেতু তৈরি করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বিশাল ময়দানে স্বেচ্ছাশ্রমে হাজারো মুসল্লি সামিয়ানা টাঙ্গনো থেকে শুরু করে নানা কাজে হাত লাগান।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তরফে ১২টি নলকূপ, ১২ কিলোমিটার পাইপলাইন, সাড়ে ৮ হাজার অস্থায়ী টয়লেট, ব্যবস্থা রয়েছে। ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ ও ২৫টি ফগার মেশিনে মশক নিধনেরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর নিকটবর্তী গাজীপুরে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আগামী ১৩ জানুয়ারি থেকে ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্ত হবে। মাঝে ৪ দিনের বিরতির পর ২০ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা।

বিশ্ব ইস্তিমায় যোগ দেওয়া মুসল্লিদের একাংশ : ফাইল ছবি

স্থান সংকুলান না হওয়া দুই ধাপে বিশ্ব ইস্তেমার আয়োজন করা হয়। আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি মেহমানদের অভ্যর্থনা জানানো, থাকা-খাওয়া ও ঢাকায় পাঠানোসহ সব কাজ দ্রুত করার জন্য তাবলিগ জামায়াতের ঢাকার কাকরাইল মসজিদ থেকে একটি প্রতিনিধি দল আখাউড়া স্থলবন্দরে অবস্থান করছেন।

তারা প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত আগত মুসল্লিদের সার্বিক সহযোগিতা করবেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের তরফে থেকেও স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন এলাকায় বিদেশি মেহমানদের খাবার দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছেন। প্রতিদিনই সকাল থেকে স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ আগত মুসল্লিদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।