Waterway economy : নৌপথে বিকাশমান অর্থনীতির হাতছানি
- আপডেট সময় : ১০:২৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ মার্চ ২০২২ ৩৩৯ বার পড়া হয়েছে
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সে ড্রেজার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : ছবি নৌমন্ত্রক
৭শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘৮ হাজার কিলোমিটা’র নৌপথের বছরজুড়ে নৌপথ সচল রাখতে ৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযান সংগ্রহ করা হচ্ছে, সকল ধরণের নৌযান তৈরিতে সক্ষম বাংলাদেশ, নারায়ণগঞ্জের বন্দরে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সে নির্মাণ কাজের উদ্বোধনকালে বলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী’
আমিনুল হক, ঢাকা
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ১০০টি নদী খননের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে বছরজুড়ে বিনা বাধায় নৌযান চলাচলের উপযোগী করার লক্ষ্যে ৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে হাসিনা সরকার।
বাংলাদেশের নৌপথ ও নতুন নতুন নৌযান দিন দিন বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে সরকারের নানা রকম উদ্যোগ। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর সংগ্রহ করা ৭টি ড্রেজারই ছিলো নদীমাতৃক বাংলাদেশের সম্পদ। ৭৫’র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরবর্তী সরকারগুলো নৌপথে অর্থনীতির বিকাশকে আমলে নেয়নি। ফলে ড্রেজার সংগ্রহ করাতো দুর আস্ত নদী রক্ষার বদলে নেমে যায় দখলের প্রতিযোগিতায়।
এবারে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ১০০টি নদী খননের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে সারাবছর বিনা বাধায় নৌযান চলাচলের উপযোগী করার লক্ষ্যে ৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে হাসিনা সরকার।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের বন্দরস্থ কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সে ৪টি ‘কাটার সাকশন ড্রেজার ও সহায়ক জলযান’ এবং একটি ‘বয়া লিফটিং জাহাজ’ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এসব জলযান নির্মাণে ব্যয় হবে ৭’শ কোটি টাকারও বেশি। দেশের নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন এবং ‘বয়া লিফটিং জাহাজ’ মোংলা বন্দরের চ্যানেলে বয়া স্থাপন ও প্রতিস্থাপনের কাজে ব্যবহৃত হবে।
নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ ,মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সবধরনের নৌযান তৈরির সক্ষমতআ অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্থ বাংলাদশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিপ্লব করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হয়। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুর নামে অপপ্রচার চালানো হয়। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া দেশের উন্নয়নে কিছুই করেনি। তারা দেশের মানুষকে শাসন ও শোষন করেছে। লুন্ঠন ছাড়া তারা দেশকে কিছু দিতে পারেনি।
বিগত ১৩ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুধু নৌখাত নয়, যোগাযোগ থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে। সার্বভৌমত্ব ধরে রাখার জন্য শক্তি অর্জন করেছে। করোনা অতিমারিকালেও থেমে থাকেনি অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড। মানুষকে নিরাপদে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আর এটি সম্ভব হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রকের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, কর্ণফুলি শীপ বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ, মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এযমিরাল মোহাম্মদ মুসা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আহমদ শামীম আল রাজী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক।

৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসমূহ
৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় দু’টি ২৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারসহ সহায়ক জলযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি, দু’টি ২৪ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারসহ সহায়ক জলযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া মোংলা বন্দরের জন্য একটি ‘বয়া লিফটিং জাহাজ’ সংগ্রহ করা হচ্ছে। কর্ণফুলি শীপ বিল্ডার্স লিমিটেড ড্রেজার ও বয়া লিফটিং জাহাজ নির্মাণ করছে। দু’টি ২৮ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারসহ সহায়ক জলযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহে ব্যয় হবে ৩৭৮ কোটি ৭০ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা এবং দু’টি ২৪ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারসহ সহায়ক জলযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহে ব্যয় হবে ২১৩ কোটি ৬১ লক্ষ ০৫ হাজার টাকা । বয়া লিফটিং জাহাজ নির্মাণে ব্যয় হবে ১১৯ কোটি টাকা। বয়া লিফটিং জাহাজ মোংলা বন্দরের চ্যানেলে বয়া স্থাপন ও প্রতিস্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হবে। ড্রেজারগুলো ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই এবং বয়া লিফটিং জাহাজ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাওয়া যাবে।
অভ্যন্তরীণ নৌরুট ও ফেরী রুটসমূহ বছরজুড়ে নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী করা এবং ক্রমবর্ধমান ড্রেজিং চাহিদা মিটানোর লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং সক্ষমতা ৩৫টি ড্রেজারসহ ১৬১টি জলযান সংগ্রহের মাধ্যমে ড্রেজিং ক্যাপাসিটি ৩ কোটি ২৫ লক্ষ ৬০ হাজার ঘনমিটার বৃদ্ধি করতে যে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সময় নির্ধারণ কনরা হয়েছে ২০১৮ সালের অক্টোবর হতে ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৮৯ কোটি ৩ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা।




















