ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আরও তিন সাবেক উপদেষ্টা ও এক বিশেষ সহকারীর ব্যাংক হিসাব তলব বেনাপোল পুটখালী সীমান্ত এলাকায় বিজিবি অভিযানে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার শিগগির ঢাকার সক্রিয় চাঁদাবাজদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, তেলের দাম লাগামছাড়া চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি

price inflation :  মূল্যস্ফীতি! ঢাকায় এক পরিবারের খাবার ব্যয় ২২,৪২১ টাকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২ ২৬০ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি সংগৃহিত

 

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক 

লাগামহীন মূল্যস্ফীতি! ঢাকা শহরে যেকোন সময়ের চেয়ে জীবনব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। অর্থনীতির ভাষায় মূল্যস্ফীতি। সাধারণ মানুষ যে মূল্যস্ফীতির জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত আসলো বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা থেকে। সংস্থাটি বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক গবেষণা পত্র প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছে যে, পাতে মাছ-মাংস না তুলে ৪ সদস্যের একটি পরিবারের খাবার কেনায় মাসিক খরচা গড়ে ৯ হাজার ৫৯ টাকা। আর যদি মাছ-মাংস পাতে তুলতে হয়, তাহলে পরিবার পিছু খরচ ২২ হাজার ৪২১ টাকা।

চলতি অক্টোবর মাসের হিসাবে একটি পরিবারের খাবার খরচ বেড়েছে ২৭ থেকে ৩৮ শতাংশ! মূল্যস্ফীতির চাপ বোঝাতে সিপিডি ঢাকা শহরের পরিবারের খাবার কেনার খরচ কত বাড়ছে, এর একটা উদাহরণ তুলে ধরতেই এরকমের হিসাব দিয়েছে। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন তার প্রবন্ধে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন। মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে ফাহমিদা খাতুন মন্তব্য জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। শুধু আমদানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নয়, দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। এটা মানুষের ওপর বোঝা হয়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির লাগামহীন অবস্থা। ফলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বিঘ্নিত হচ্ছে। খাদ্যসংকটের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বিশ্ব খাদ্য সংস্থা বলছে, ভবিষ্যতে বিশ্বের ৪২টি দেশে খাদ্যসংকট হতে পারে। এই তালিকায় বাংলাদেশ আছে। মূল্যস্ফীতি চাপ কমাতে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর সুপারিশ করেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ চাপে আছে। সিপিডি আরও বলছে, মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার কম। মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি, আর ৫ শতাংশ হারে মজুরি বাড়ছে। সিপিডি দেখিয়েছে, এত কম হারে মজুরি বাড়লে বিভিন্ন খাতের শ্রমিকেরা মাছ-মাংস না খেয়েও সংসার চালাতে পারবেন না। তাঁদের ন্যূনতম মজুরি চেয়ে খাবার খরচের বেশি। এ তালিকায় আছে তৈরি পোশাক, হোটেল-পরস্তোরাঁ, প্রসাধনী, দরজি, বেকারি, অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ, প্লাস্টিক, চালকল, চামড়া ও পাদুকা খাতের শ্রমিকেরা।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, খাদ্য একটি রাজনৈতিক পণ্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে খাদ্যপণ্য কেনায় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। কারণ, নিজের মজুত নিশ্চিত না করে কোনো দেশ পণ্য রপ্তানি করতে চাইবে না। তাই ভবিষ্যতে ডলার থাকলেও বিশ্ববাজারে পর্যাপ্ত খাদ্যপণ্য না–ও থাকতে পারে।

অর্থনীতিতে সাতটি সংকট আছে বলে মনে করে সিপিডি। এই সংকটগুলো হলো মূল্যস্ফীতি, ডলার, খাদ্য, জ্বালানি, ইউক্রেন যুদ্ধ, কোভিড-১৯ এবং জলবায়ু পরিবর্তন। সিপিডি বলছে, এ সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগগুলো সঠিক, কিন্তু পর্যাপ্ত নয়। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ২০২৩ সালেও এ সংকট থেকে মুক্তি পাব না। বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আমাদের অর্থনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এক বছরের মধ্যে পরিত্রাণ পাব এটা আশা করা যায় না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

price inflation :  মূল্যস্ফীতি! ঢাকায় এক পরিবারের খাবার ব্যয় ২২,৪২১ টাকা

আপডেট সময় : ০৭:৪০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২

ছবি সংগৃহিত

 

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক 

লাগামহীন মূল্যস্ফীতি! ঢাকা শহরে যেকোন সময়ের চেয়ে জীবনব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। অর্থনীতির ভাষায় মূল্যস্ফীতি। সাধারণ মানুষ যে মূল্যস্ফীতির জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত আসলো বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা থেকে। সংস্থাটি বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক গবেষণা পত্র প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছে যে, পাতে মাছ-মাংস না তুলে ৪ সদস্যের একটি পরিবারের খাবার কেনায় মাসিক খরচা গড়ে ৯ হাজার ৫৯ টাকা। আর যদি মাছ-মাংস পাতে তুলতে হয়, তাহলে পরিবার পিছু খরচ ২২ হাজার ৪২১ টাকা।

চলতি অক্টোবর মাসের হিসাবে একটি পরিবারের খাবার খরচ বেড়েছে ২৭ থেকে ৩৮ শতাংশ! মূল্যস্ফীতির চাপ বোঝাতে সিপিডি ঢাকা শহরের পরিবারের খাবার কেনার খরচ কত বাড়ছে, এর একটা উদাহরণ তুলে ধরতেই এরকমের হিসাব দিয়েছে। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন তার প্রবন্ধে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন। মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে ফাহমিদা খাতুন মন্তব্য জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। শুধু আমদানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নয়, দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। এটা মানুষের ওপর বোঝা হয়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির লাগামহীন অবস্থা। ফলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বিঘ্নিত হচ্ছে। খাদ্যসংকটের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বিশ্ব খাদ্য সংস্থা বলছে, ভবিষ্যতে বিশ্বের ৪২টি দেশে খাদ্যসংকট হতে পারে। এই তালিকায় বাংলাদেশ আছে। মূল্যস্ফীতি চাপ কমাতে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর সুপারিশ করেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ চাপে আছে। সিপিডি আরও বলছে, মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার কম। মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি, আর ৫ শতাংশ হারে মজুরি বাড়ছে। সিপিডি দেখিয়েছে, এত কম হারে মজুরি বাড়লে বিভিন্ন খাতের শ্রমিকেরা মাছ-মাংস না খেয়েও সংসার চালাতে পারবেন না। তাঁদের ন্যূনতম মজুরি চেয়ে খাবার খরচের বেশি। এ তালিকায় আছে তৈরি পোশাক, হোটেল-পরস্তোরাঁ, প্রসাধনী, দরজি, বেকারি, অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ, প্লাস্টিক, চালকল, চামড়া ও পাদুকা খাতের শ্রমিকেরা।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, খাদ্য একটি রাজনৈতিক পণ্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে খাদ্যপণ্য কেনায় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। কারণ, নিজের মজুত নিশ্চিত না করে কোনো দেশ পণ্য রপ্তানি করতে চাইবে না। তাই ভবিষ্যতে ডলার থাকলেও বিশ্ববাজারে পর্যাপ্ত খাদ্যপণ্য না–ও থাকতে পারে।

অর্থনীতিতে সাতটি সংকট আছে বলে মনে করে সিপিডি। এই সংকটগুলো হলো মূল্যস্ফীতি, ডলার, খাদ্য, জ্বালানি, ইউক্রেন যুদ্ধ, কোভিড-১৯ এবং জলবায়ু পরিবর্তন। সিপিডি বলছে, এ সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগগুলো সঠিক, কিন্তু পর্যাপ্ত নয়। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ২০২৩ সালেও এ সংকট থেকে মুক্তি পাব না। বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আমাদের অর্থনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এক বছরের মধ্যে পরিত্রাণ পাব এটা আশা করা যায় না।