ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি চাঁদাবাজি-ছিনতাই দমনে জিরো টলারেন্স: মাঠ পর্যায়ে কঠোর বার্তা আইজিপির কুয়েতে তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই

Genocide : গণহত্যার স্বীকৃতির প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২ ২৯০ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতির প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন : ছবি সংগ্রহ

 

‘একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের উপর পাকিস্তানিদের নির্মম হত্যাযজ্ঞকে ‘জেনোসাইড’ স্বীকৃতি দিতে প্রস্তাব উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায়’

এর আগে একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের উপর চালানো পাকিস্তানিদের বর্বরতাকে ‘জেনোসাইড’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘জেনোসাইড ওয়াচ’

‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সেই বর্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের স্মরণে ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব ২০১৭ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। তখন থেকেই এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ’

 

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে নৃশংস গণহত্যায় মেতে ওঠে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংস হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করা হলো মার্কিন কংগ্রেসে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কংগ্রেসম্যান রো খান্না এবং কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবোট স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ অক্টোবর) মার্কিন আইনসভার নিম্নকক্ষে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। এ নিয়ে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবোট তার টুইট বার্তায় বলেছেন, গণহত্যার শিকার লাখ লাখ মানুষের স্মৃতিকে আমাদের বছরের পর বছর ধরে মুছে যেতে দেওয়া উচিত নয়। এই গণহত্যার স্বীকৃতি ঐতিহাসিক রেকর্ডকে শক্তিশালী করবে। আমাদের সহকর্মী আমেরিকানদের শিক্ষিত করবে। সেই সঙ্গে অপরাধীদের বার্তা দেবে যে, এই ধরনের অপরাধ সহ্য করা হবে না কিংবা কেউ ভুলে যাবে না।

কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট প্রতিনিধি পরিষদে এই প্রস্তাব আনেন, যা তিনি টুইটারে জানিয়েছেন। তার আনা এই প্রস্তাবে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।

প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান সদস্য শ্যাবট টুইটে লিখেছেন, “১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গণহত্যা কোনোভাবেই ভুলতে দেওয়া যাবে না

“ওহাইওর ফার্স্ট ডিস্ট্রিক্টের আমার সহকর্মী রো (রোহিত) খান্নার সহযোগিতায় আমি বাঙালি ও হিন্দুদের উপর চালানো সেই সুনির্দিষ্ট গণ-নৃশংসতার স্বীকৃতি আদায়ে প্রস্তাব পেশ করেছি।”

রোহিত খান্না টুইটে লিখেছেন, এই ধরনের একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে প্রথম আনার ক্ষেত্রে স্টিভ শ্যাবোটের সহযোগী হতে পেয়ে তিনি গর্বিত।

প্রস্তাবে বাংলাদেশ সরকারের হিসাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখের বেশি নারীর সম্ভ্রমহানি এবং প্রায় ১ কোটি মানুষের উদ্বাস্তু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর আগে একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের উপর চালানো পাকিস্তানিদের বর্বরতাকে ‘জেনোসাইড’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘জেনোসাইড ওয়াচ’।

পাকিস্তানিদের শোষণ বঞ্চনার ইতিহাস এবং বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সেখানে বলা হয়, জেনোসাইড ওয়াচ এই স্বীকৃতি দিচ্ছে যে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাঙালিদের ওপর যেসব অপরাধ করেছে, তার মধ্যে ছিল ‘জেনোসাইড, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ’।

সেসব অপরাধ ও জেনোসাইডের ঘটনাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকার করে নিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাসের আহ্বান জানিয়েছে জেনোসাইড ওয়াচ।

তার আগে চলতি বছরের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ‘লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন’ একাত্তরে বাংলাদেশিদের উপরে পাকিস্তানিদের নির্মম হত্যাযজ্ঞকে ‘জেনোসাইড’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা

২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান; শুরু হয় বাঙালির প্রতিরোধ পর্ব।

bangladesh-genocide-resolution-voiceekattr-d1dd

নয় মাসের যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Genocide : গণহত্যার স্বীকৃতির প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন

আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২

একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতির প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন : ছবি সংগ্রহ

 

‘একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের উপর পাকিস্তানিদের নির্মম হত্যাযজ্ঞকে ‘জেনোসাইড’ স্বীকৃতি দিতে প্রস্তাব উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায়’

এর আগে একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের উপর চালানো পাকিস্তানিদের বর্বরতাকে ‘জেনোসাইড’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘জেনোসাইড ওয়াচ’

‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সেই বর্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের স্মরণে ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব ২০১৭ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। তখন থেকেই এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ’

 

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে নৃশংস গণহত্যায় মেতে ওঠে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংস হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করা হলো মার্কিন কংগ্রেসে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কংগ্রেসম্যান রো খান্না এবং কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবোট স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ অক্টোবর) মার্কিন আইনসভার নিম্নকক্ষে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। এ নিয়ে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবোট তার টুইট বার্তায় বলেছেন, গণহত্যার শিকার লাখ লাখ মানুষের স্মৃতিকে আমাদের বছরের পর বছর ধরে মুছে যেতে দেওয়া উচিত নয়। এই গণহত্যার স্বীকৃতি ঐতিহাসিক রেকর্ডকে শক্তিশালী করবে। আমাদের সহকর্মী আমেরিকানদের শিক্ষিত করবে। সেই সঙ্গে অপরাধীদের বার্তা দেবে যে, এই ধরনের অপরাধ সহ্য করা হবে না কিংবা কেউ ভুলে যাবে না।

কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট প্রতিনিধি পরিষদে এই প্রস্তাব আনেন, যা তিনি টুইটারে জানিয়েছেন। তার আনা এই প্রস্তাবে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।

প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান সদস্য শ্যাবট টুইটে লিখেছেন, “১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গণহত্যা কোনোভাবেই ভুলতে দেওয়া যাবে না

“ওহাইওর ফার্স্ট ডিস্ট্রিক্টের আমার সহকর্মী রো (রোহিত) খান্নার সহযোগিতায় আমি বাঙালি ও হিন্দুদের উপর চালানো সেই সুনির্দিষ্ট গণ-নৃশংসতার স্বীকৃতি আদায়ে প্রস্তাব পেশ করেছি।”

রোহিত খান্না টুইটে লিখেছেন, এই ধরনের একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে প্রথম আনার ক্ষেত্রে স্টিভ শ্যাবোটের সহযোগী হতে পেয়ে তিনি গর্বিত।

প্রস্তাবে বাংলাদেশ সরকারের হিসাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখের বেশি নারীর সম্ভ্রমহানি এবং প্রায় ১ কোটি মানুষের উদ্বাস্তু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর আগে একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের উপর চালানো পাকিস্তানিদের বর্বরতাকে ‘জেনোসাইড’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘জেনোসাইড ওয়াচ’।

পাকিস্তানিদের শোষণ বঞ্চনার ইতিহাস এবং বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সেখানে বলা হয়, জেনোসাইড ওয়াচ এই স্বীকৃতি দিচ্ছে যে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাঙালিদের ওপর যেসব অপরাধ করেছে, তার মধ্যে ছিল ‘জেনোসাইড, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ’।

সেসব অপরাধ ও জেনোসাইডের ঘটনাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকার করে নিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাসের আহ্বান জানিয়েছে জেনোসাইড ওয়াচ।

তার আগে চলতি বছরের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ‘লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন’ একাত্তরে বাংলাদেশিদের উপরে পাকিস্তানিদের নির্মম হত্যাযজ্ঞকে ‘জেনোসাইড’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা

২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান; শুরু হয় বাঙালির প্রতিরোধ পর্ব।

bangladesh-genocide-resolution-voiceekattr-d1dd

নয় মাসের যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে