Ganga Vilas River Cruise : বিশ্বের দীর্ঘতম নৌযাত্রার রেকর্ড, ভারতের পর্যটকবাহী জাহাজ ‘গঙ্গা বিলাস’
- আপডেট সময় : ০১:৩২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ৩৩২ বার পড়া হয়েছে
গঙ্গা বিলাস রিভার ক্রুজ খুলে দেবে সুন্দরবনের ইকোট্যুরিজমের সম্ভাবনার কপাট, ভারতের হাইকমিশনার
ভারতের পর্যটকবাহী ‘গঙ্গা বিলাস রিভার ক্রুজ’ দুই দেশের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং বাংলাদেশের কিছু ঐতিহাসিক স্থানকে বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে যুক্ত করবে। এর ফলে পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা
বিশ্বের দীর্ঘতম নৌযাত্রার রেকর্ড গড়ল ভারতের পর্যটকবাহী জাহাজ ‘গঙ্গা বিলাস’। নতুন ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হবে বাংলাদেশও। সেই সঙ্গে দুই দেশের বন্ধন আরও সুদৃঢ় এবং অর্থনীতিও গতিশীল হবে। বিশেষ করে ভারতের পর্যটকবাহী ‘গঙ্গা বিলাস রিভার ক্রুজ’ দুই দেশের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং বাংলাদেশের কিছু ঐতিহাসিক-ঐতিহ্যবাহী স্থানকে বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে যুক্ত করবে। এর ফলে পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। রিভার ক্রুজ খুলে দেবে সুন্দরবনের ইকোট্যুরিজমের সম্ভাবনার কপাট।

এমন আশা বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার। গঙ্গা বিলাস শুক্রবার বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করবে এবং শনিবার মংলায় পৌঁছাবে। সেখানে বাংলাদেশের নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মাসহ সংশ্লিষ্ট আধিকারীকরা গঙ্গা বিলাসকে স্বাগত জানাবেন।
খুলনার কয়রার আংটিহারা ও চিলমারীতে দ্রুততম সময়ে অনবোর্ড কাস্টমস এবং ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এবং এনবিআর। ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করবে ‘গঙ্গা বিলাস’।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এটা শুধু দুই দেশের পর্যটনের সম্ভাবনা উন্মোচন করবে তা নয়, মানুষে মানুষে সংযোগ স্থাপনের একটি নতুন উপায়ও। নদীগুলি ঐতিহ্যগতভাবে ভারত ও বাংলাদেশকে সংযুক্ত করেছে এবং গঙ্গা বিলাস নদী ক্রুজ সেই সংযোগকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হবে।

১৩ জানুয়ারী বারাণসী থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পতাকা উড়িয়ে গঙ্গা বিলাসের শুভ যাত্রার সূচনা করেছিলেন। ৫০ দিনের ৩ হাজার ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি জলপথ অতিক্রম করবে। জলপথ যাত্রায় কোন পর্যটকবাহী জাহাজের এটিই হবে বিশ্বের দীর্ঘতম নৌযাত্রার রেকর্ড। এটি প্রায় দুই সপ্তাহ বাংলাদেশে মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সম্পর্কে জানতে পারবে।
এর আগে নৌমন্ত্রকের সচিব মো: মোস্তফা কামাল বলেন, এটা শুধু ট্যুর নয়, এটা প্রটোকলের অংশ। এই ট্যুর আমাদের পর্যটনকে আরও বেশি সুবিধানকজ অবস্থানে নিয়ে যাবে এবং ব্যবসা, বাণিজ্য ও পারস্পারিক সম্পর্ক আরো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমাদের আন্তরিকতার কমতি থাকবেনা।
‘এমভি গঙ্গা বিলাস‘ বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বাংলাদেশের জলসীমায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে। এসওপি অনুযায়ি প্রটোকল রুটের নাব্যতা রক্ষা, বার্দিং সুবিধা নিশ্চিতকরণ ও নৌপথ ব্যবহারের জন্য ভয়েজ পারমিশন প্রদান এবং ভয়েজ পারমিশনের সার্বিক মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকবে বিআইডব্লিউটিএ।
World's #LongestRiverCruise #GangaVilas is entering Bangladesh on Friday. High Commissioner Pranay Verma tells @DhakaPrasar that it's a momentous occasion. It unlocks power of riverine system, a new way of connecting people@shipmin_india @PIB_ShipMin pic.twitter.com/z5JoQlokWv
— DD News (@DDNewslive) February 3, 2023
বাংলাদেশের নৌপথ অতিক্রমকালে জাহাজটিকে যথাযথ নিরাপত্তা বিধান করার পদক্ষেপ নিবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এন্ট্রি পয়েন্ট আংটিহারাতে সকল যাত্রি এবং নাবিকদের কোভিড-১৯ সার্টিফিকেট পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নিবে স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
১৯৭২ সালে প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি) এর অধীনে বাংলাদেশ-ভারত নৌপথে বাণিজ্য শুরু হয়েছিল; যা এখনো কার্যকর আছে। প্রটোকলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যাত্রি ও পর্যটকবাহী নৌযান চলাচলের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে বাংলাশে-ভারতের মধ্যে কোস্টাল এবং প্রটোকল রুটে যাত্রি ও ক্রুজ সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
উক্ত সমঝোতা স্মারকের আলোকে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) স্বাক্ষরিত হয়। এসওপি’র আওতায় ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রি ও ক্রুজ সার্ভিস চালুর পর হতে তিনটি ভারতীয় এবং একটি বাংলাদেশী নৌযান চলাচল করেছে।



















