drinking water : খাবার জল পেল সীমান্ত জনপথ লক্ষীদাড়ীর ৪০ হাজার মানুষ
- আপডেট সময় : ০৫:১৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৩২৯ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব ছবি
অনিরুদ্ধ (ভোমরা) সাতক্ষীরা থেকে
বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা ভোমরা ইউনিয়। পাশেই ব্যস্ততম ভোমরা স্থল বন্দর। ২০০৯ সালে ২৫ মে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আইলা। তাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সাতক্ষীরা জেলা। বাড়িঘর হারানোর সঙ্গে দেখা দেয় খাবার জলের তীব্র সংকট। নোনাজল মিশে গিয়ে আর্সেনিক অধ্যূষিত এলাকায় আরেক বিপদ ফণা তোলে। এক কলস বিশুদ্ধ খাবার জলের জন্য অনেকটা পথ অতিক্রম করতে হতো।
দীর্ঘ দিনের কাঙ্খ্ষিত খাবার জল পেয়ে আনন্দে ভাসছে সীমান্ত এলাকা ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষীদাড়ী গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ। তারা মনে করেন এই জল সৃষ্টির কর্তার দান। এলাকাটি এখন আর গ্রাম নয়, শহরতলী। সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পাইপ লাইনের মাধ্যমে সুপেয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে। যার সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ২ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।
ইছামতির নদীর পূর্ব তীরে বাংলাদেশের সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর এবং পশ্চিমতীরে পশ্চিবঙ্গের চব্বিশ পরগনার বসিরহাটের ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দর। ভোমরা স্থলবন্দরের উত্তরপাশে ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষীদাড়ী গ্রাম। চারিদিকে উন্নয়নের ছোঁয়া। সারি সারি পাকা, আধ পাকা বাড়িঘর থেকে শুরু করে দৃষ্টিনন্দর বহুতল ভবন হাত ছানি দেয়।
সব কিছু থাকলেও ছিল না বিশুদ্ধ খাবার জলের যোগান। বিশুদ্ধ খাবার জলের অপেক্ষায় কেটে গেছে লম্বা সময়। অবশেষে দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা বিশুদ্ধ খাবার জলের যোগানে যার পর নাই খুশি আর্সেনিক প্রবন এলাকার মানুষ। তাদের অনেকেই মনে করে বিশুদ্ধ জল সৃষ্টি কর্তার দান।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মোহর আলী জীবনের বেশিরভাগ সময়ই ঘূর্ণিঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখেছেন। দিনে দিনে জলের লেয়ার নিচে নেমে যাওয়া, লবনজল মিশে গিয়ে আর্সেনিক প্রবন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হওয়া এবং খাবার জলের তীব্র সংকটের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন তিনি। সেখানে বিশুদ্ধ খাবার জল পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ৯০ বছরের এই প্রবীণ বাসিন্দা।

এখানের কাকলী, বন্দনা দেবী, আশিকুর রহমানসহ অনেকেই একবাক্যে স্থানীয় এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মতে দীর্ঘ দিন পর মানবিক সমস্যার সমাধান হওয়ায় আর্সেনিকমুক্ত খাবার জলের নিশ্চয়তা হলো।
আশিকুর রহমানের ভাষায়, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস হলেই এলাকার টিউবওয়েল গুলো নোনা জলে ডুবে যেতো। তখন খাবার জলের তীব্র সংকটে পড়তে হতো এলাকার হাজারো মানুষ। এটাই নিয়ত বলে মেনে নিয়েছিলো এলাকাবাসী। জনপ্রতিনিধির এই সফল উদ্যোগে মানুষ আজ তারা কৃতজ্ঞ।




















