Climate crisis : গরমের উৎস কি জলবায়ু সংকট
- আপডেট সময় : ১২:৪৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ জুলাই ২০২২ ৪৩১ বার পড়া হয়েছে
ছবি সংগ্রহ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
কোনও একটি জায়গায় বছরের পর বছর ধরে আবহাওয়ার ধরনকেই বলা হয় জলবায়ু। সেই চেনাজানা ধরন যখন বদলে যায়, সেটাই জলবায়ু পরিবর্তন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যাবে মানুষের জীবন যাপন। পানীয় জলের সঙ্কট তৈরি হবে। খাদ্য উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়বে। কোন কোন অঞ্চল বিপজ্জনক মাত্রায় গরম হয়ে পড়বে। সেই সাথে সমুদ্রের জল বেড়ে বহু এলাকা প্লাবিত হবে। ফলে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে অনেক স্থান’
জলবায়ু পরিবর্তনের বা পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার বিভিন্ন কারণের মধ্যে রয়েছে-প্রকৃতির প্রতি অবিচার, বন উজাড়, শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য, কালো ধোঁয়া, যানবাহনের কারণে পরিবেশ দূষণ।
শৈশবকাল থেকেই স্বাভাবিক আশ্বিন-ভাদ্রের অস্বাভাবিক গরমের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ পরিচিত। সেটা সহনীয় মাত্রায়। এখনতো রাত-দিন সমানতালে অসহ্য গরম। সহনীয় তাপমাত্রার থেকে কেন এত গরম? হঠাৎ করেই এত গরমের কারণ কি?
গরম বেশি অনুভূত হওয়ার কারণ জানাগে গিয়ে আবহাওয়া আবহাওয়াবিদদের বক্তব্য হচ্ছে, মৌসুমি বায়ু আসার পথ দক্ষিণ দিকে। সেখানে সমুদ্র পৃষ্ঠের ওপরের অংশে তাপমাত্রা বেশি থাকে। ফলে ওই দিক থেকে আসা বাতাসে গরম বেশি অনুভূত হয়।

জলবায়ুর পরিবর্তনে বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে যাবার কারণ বলা হচ্ছে। গবেষণা হিটওয়েভ হল অস্বাভাবিক গরম আবহাওয়ার একটি সময় যা সাধারণত দুই বা তার বেশি দিন স্থায়ী হয়। তাপপ্রবাহে প্রতিবছরই বাড়ছে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে করা একটি সমীক্ষা অনুসারে, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ চরম তাপমাত্রার কারণে মারা যায়। আর এ ধরনের শিকারের অর্ধেকই এশিয়ায়।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রায় দেড়’শ কোটি মানুষ জরুরি অবস্থার মুখে পড়ার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত দেশগুলোকে এ সংকট মোকাবেলায় অর্থায়ন ও প্রযুক্তি বিনিময়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২৫ মে সন্ধ্যায় গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি ক্লাইমেট ভালনেরবল ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতির দায়িত্বভার হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতাদের এ আহ্বান জানান।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, ভারত গত দেড় দশকে এখনও পর্যন্ত তার ১৫টি উষ্ণতম বছরের মধ্যে ১২টি রেকর্ড করেছে। তাপপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট মৃত্যু সবসময়ই ঠান্ডা তরঙ্গের কারণে কম হয়েছে। কিন্তু সেটা এখন বদলে যাচ্ছে। মানব-প্ররোচিত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর উষ্ণায়নের কারণে ঘটে।
দাবানলে পুড়ছে ইউরোপের তিন দেশ পর্তুগাল, ফ্রান্স ও স্পেন। দমকলবাহিনীর হাজার হাজার কর্মী আগুন নেভাতে কাজ করছেন। বেশ কয়েক দিন ধরেই এমন পরিস্থিতি। দাবানল কমার লক্ষণ নেই। এখন পর্যন্ত পর্তুগালে ২৩৮ জন ও স্পেনে ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এসব তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। এই গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। শ্রাবণ মাসে অসহ্য গরমের কারণ হিসাবে আবহাওয়া অফিস বলছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে। তা ছাড়া সাগরে সৃষ্টি হয়েছে লঘুচাপ। লঘুচাপের কারণে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে গেছে। তাই গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরে বেশ গরম অনুভূত হচ্ছে। তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলিসিয়াসের মধ্যে থাকলেও গরম অনুভূত হচ্ছে। এই গরমের বেশ কয়েকটি কারণ জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে সেটিকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। তাপপ্রবাহ মৃদু হলেও মানুষের বেশি গরম লাগছে মূল বাতাসে আদ্রতা থাকার কারণে। বৃষ্টি না তাপমাত্র কমবে না।



















