Calcutta Book Fair : ৪৬তম কলকাতা আন্তজার্তিক বইমেলা, ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ দিবস
- আপডেট সময় : ০৯:০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৩ ২৩৩ বার পড়া হয়েছে
৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ দিবস পালিত হবে আগামী
‘এবারের বইমেলাতেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে তৈরি হচ্ছে প্যাভিলিয়ন। বাংলাদেশের বঙ্গভবনের আদলে এই প্যাভিলিয়নটি করা হচ্ছে’
ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ
অপেক্ষা মাত্র আটদিন। চলছে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি। তারপরই ৩০ জানুয়ারি দুপুর দুটোয় প্রথা মেনে ঘণ্টা বাজিয়ে ৪৬তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সল্টলেকে মেলা প্রাঙ্গন পরিদর্শনে এসে এমনটিই জানালেন গিল্ডের সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন গিল্ডের সভাপতি সুধাংশু শেখর দে, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার গৌরব শর্মাসহ পুলিশের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
এই বছরও সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে হচ্ছে বইমেলা। এবারের থিম কান্ট্রি স্পেন। এবছর বইমেলার আকর্ষণ বই কিনুন, লাইব্রেরি জিতুন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন স্পেনের ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীন ‘বুকস অ্যান্ড প্রমোশন রিডিং’ বিভাগের মহাপরিচালক মারিয়া যোসে গালভেজ সালভাদর, বিশিষ্ট সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় প্রমুখ, রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী এবং স্পেন ও বাংলার কবি সাহিত্যিকরাও।
বইমেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন হচ্ছে বঙ্গভবনের আদলে। বরাবরের মতো এবারও বইমেলার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে তৈরি হচ্ছে প্যাভিলিয়ন। বাংলাদেশের বঙ্গভবনের আদলে এই প্যাভিলিয়নটি করা হচ্ছে। মেলায় প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করছে থাইল্যান্ড।

এবারের মেলায় বাংলাদেশের মোট ৪৩টি প্রকাশনা সংস্থার অংশ নেবে। তার মধ্যে অন্যতম বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর, মাওলা ব্রাদার্স, অন্বেষা প্রকাশন, আহমেদ পাবলিশিং হাউস, অনিন্দ্য প্রকাশ, নালন্দা, সাহিত্য প্রকাশ, অবসর প্রকাশনা সংস্থা ইত্যাদি।
এবারে কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশ দিবস পালিত হবে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি। এদিন বাংলাদেশ থেকে যোগ দেবেন দেশটির প্রথিতযশা কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের খ্যাতিমান শিল্পীরা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতার একটি তারকা হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে বইমেলা সম্পর্কিত সবিস্তার তথ্য উপস্থাপন করেন, কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার আয়োজক সংস্থা বুক সেলারস এন্ড গিল্ডের সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুধাংশু শেখর দে।
মেলায় ৭০০টি স্টল এবং ২০০টি লিটল ম্যাগাজিনসহ ৯০০টি স্টল নিয়ে সাজানো হয়েছে বইমেলা। বই মেলার ইতিহাসে এবারেই সর্বোচ্চ স্টল অংশ নিচ্ছে। পাঠক ও বইপ্রেমীদের চলাফেরার সুবিধার্থে মেলায় ৯টি গেট করা হচ্ছে। এরমধ্যে একটি স্পেনের টোলেডো গেট, একটি বিশ্ব বাংলা, অন্যটি কাজী নজরুলের অগ্নিবীণার আদলে তৈরি হবে।

উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে বইমেলা কর্তৃপক্ষের তরফে ‘সিইএসসি সৃষ্টি সম্মাননা’ পুরস্কার দেওয়া হবে সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়কে। বইয়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে থাকছে লটারি-যেখানে জয়ীদের দেওয়া হবে বুক গিফট কুপন।
৪৬তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার প্রধান আকর্ষণ কলকাতা সাহিত্য উৎসব। বইমেলার এসবিআই অডিটোরিয়ামে ৯ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নবমতম উৎসবে অংশগ্রহণ করবে দেশ বিদেশের প্রখ্যাত লেখক, সাহিত্যিকরা।
করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে এবারের বইমেলায় রেকর্ড সংখ্যক বইপ্রেমীন সমাগম হবে বলে আশা করছেন গিল্ডের কর্তারা। সেই দিক বিবেচনায় নিয়ে কাছাকাছি দুটি মেট্রো স্টেশনেও থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা।

আয়োজকরা জানান, বইমেলায় যাতায়াতের সুবিধার্থে পরিবহন দফতরের তরফে থাকছে অতিরিক্ত বাস পরিষেবা। সঙ্গে থাকছে ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো পরিষেবা। সরাসরি শিয়ালদহ স্টেশন থেকে পৌঁছানো যাবে মেলায়। বিধাননগর পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি রুটে নির্ধারণ করা হয়েছে অটো ভাড়া। কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলাকে পরিবেশ বান্ধব কর তে এগিয়ে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বনদফতর।
দ্বিশত জন্মবর্ষ উদযাপনে বইমেলার দুটি হল হচ্ছে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং প্যারীচরণ সরকারের নামে। লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন হবে লেখক-সম্পাদক রমাপদ চৌধুরীর নামে। এবছর তাঁর জন্মশতবর্ষ। থাকছে প্রেস কনার, মৃণাল, সেন ও তরুণ মজুমদারের নামে দুটি মুক্তমঞ্চ।



















