Bangladesh Railway : নজির গড়া উন্নয়নে বাংলাদেশ রেলখাত-১
- আপডেট সময় : ০৮:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ এপ্রিল ২০২২ ৩৭২ বার পড়া হয়েছে
রেলওয়ের নতুন স্টেশন ছবি সংগ্রহ
‘আমেরিকার তৈরি ৩,৩০০ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিনের চালকের কক্ষ এসি, ইঞ্জিনের সামনে ও পেছনে সিসি ক্যামেরা, রাতে আলোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এলইডি লাইট, প্রতি ঘণ্টায় গতি ১৪০ কিলোমিটার’
‘রেলওয়ের বর্তমান ৩০১৮.৮৮ কিলোমিটার নেটওয়ার্ক রয়েছে। যার মধ্যে ৮৩১.৫৪ কিলোমিটার ব্রড গেজ, ১৬৫২.১৫ কিলোমিটার মিটার গেজ এবং ৫৩৫.১৯ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেল লাইন। পরিসরের দিক দিয়ে ছোট হলেও জন্মলগ্ন থেকেই জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের। রাষ্ট্রীয় এই পরিবহন সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাকাল ১৫ নভেম্বর ১৮৬২’
আমিনুল হক, ঢাকা
রেলওয়েকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাদা করে একটা মন্ত্রক করে দেন যার নাম রেলপথ মন্ত্রক। স্বতন্ত্র মন্ত্রক হবার পর থেকেই উন্নয়নের সড়কে যুক্ত হয় রেল। রেলের গৌবময় ইতিহাস ফেরাতে হাত লাগায় রেলভবন। নেওয়া একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিনিয়ত নতুন রুটে হুইসেল বাজছে। বিগত বছরগুলোতে রেলের চোখ ধাধানো উন্নয়ন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করেছে। ৭৫’র পরবর্তী সরকারগুলো রেলের উন্নয়নে তেমন একটা নজর কাড়েনি। ফলে একের পর এক রেলপথ বন্ধ হতে থাকে। অবশিষ্ট রেলপথের অবস্থাও খুবই খারাপ। যেকারণে দুর্ভোগ বাড়ে সাধারণ মানুষের। এক্ষেতে আমজনতার দুর্ভোগের বিষয়টি কেউ আমলে নেয়নি।
রেলবহরে যুক্তহওয়া নতুন বগি : ছবি সংগ্রহ
অবশেষে ইতিহাসের পথ বেয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে সাধারণ মানুষ নিজেদের ইচ্ছে মাফিক ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনাকে নির্বাচিত করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন একটা সময়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিলেন, যখন ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৬ থেকে ৭ ঘন্টা লোডশেডিং। আর রেল সেতো তলানীর কথা। অথচ সাধারণ মানুষের জন্য রেলপরিষেবা হচ্ছে আদর্শ। সেই রেল চলছিলো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। আর সঙ্গে বাসা বেধেছিলো দুর্নীতি!
লোকোমোটিভ তথা ইঞ্জিন, পাওয়ার কার ইত্যাদি সমস্যা ছিলো পাহাড়সম। অবহেলিত একটি খাতে পরিণত হয়েছিলো নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম রেলখাত। এই জঞ্জালকে সরিয়ে রেলবহরে ধারাবাহিকভাবে যুক্ত হচ্ছে, নতুন নতুন ইঞ্জিন, পাওয়ার কার, বগি, নির্মাণ হচ্ছে রেলপথ, রেলসেতু ইত্যাদি। অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আলোর পথে দূরন্ত গতিতে ছুটে চলছে নতুন নতুন ট্রেন। বন্ধ হয়ে পড়া রেলপথগুলো নয়া যৌবন নিয়ে জেগে ওঠেছে। তারপর বুক ছিলে গগনবিদারি হুইসেল বাজিয়ে জানান দিচ্ছে গতিশীল রেলব্যবস্থার।

রেলবহরে যুক্ত হচ্ছে নতুন বগি : ছবি সংগ্রহ
বাংলাদেশে রেলওয়ের দুটো বিভাগে বিভক্ত। এরমধ্যে যমুনা নদীর পশ্চি পাশের অঞ্চল নিয়ে পশ্চিমাঞ্চল এবং পুর্বাঞ্চল। দুই বিভাগে দুই ধরণের রেলপথ রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চে ব্রডগেজ এবং পূর্বাঞ্চলে মিটারগেজ। এক সময় পূর্বাঞ্চলের রেলপরিষেবা টাঙ্গাইলের যমুনা তীরবর্তী স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করতো। সেখান থেকে যাত্রীরা লঞ্চ বা ফেরিতে যমুনার পশ্চিম তীরে গিয়ে গন্তব্যে ট্রেন ধরতো। যমুনা সেতুর সঙ্গে রেল চলাচলা জোড়ার পর সরাসরি ট্রেন চলছে। কিন্তু এটা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যমুনা নদীতে আলাদাভাবে রেলসেতু নির্মাণ করতে হাসিনা সরকার।
সংকট কাটিয়ে গশিতীল রেল
আলাদা মন্ত্রক হওয়ায় কাজকর্মে গতি পায় রেলমন্ত্রক। ২০১৯ সালে রেলপথ মন্ত্রকের দায়িত্বে আসেন নূরুল ইসলাম সুজন। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। ৭১’র সীমান্ত জেলা পঞ্চগড় থেকে শ’ শ’ মানুষকে ভারতে নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেছেন। বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম। যিনি দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন ১৯৬৬ সালের ছয় দফা এবং ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এমন পরিবারের সন্তান হিসেবে নূরুল ইসলাম সুজন দায়িত্ববোধ থেকেই রেলওয়ের উন্নয়নে বিরামহীন ছুটে চলা।

রেলবহরে নতুন ইঞ্জন : ছবি সংগ্রহ
নতুন নতুন ইঞ্জিণ যুক্ত হচ্ছে রেলবহরে
এরই মধ্যে দেশের গেল বছর পূর্বাঞ্চলীয় রেলবহরে যুক্ত হয়েছে ৩০টি ইঞ্জিন। যাত্রী সেবার বাড়াতে বাংলাদেশ রেলবহরে পর্যায়ক্রমে যুক্ত হবে কোরিয়া তৈরি আরও ৭০টি মিটারগেজ ডিজেল লোকোমোটিভ। তাছাড়াও আমেরিকা থেকে আনা আসছে আরও ৪০টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন। যা যুক্ত হবে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে। ৬৬ সিরিজের নতুন ১৬টি ইঞ্জিনের সবগুলোই ব্রডগেজ লাইনের জন্য। নতুন ইঞ্জিনগুলো দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনা করা হবে। আর পুরোনো ৬৫ সিরিজের ইঞ্জিনগুলো দিয়ে চলানো হবে মালবাহী ট্রেন।

নতুন রেলপথ : ছবি সংগ্রহ
ডিটিও আনোয়ার হোসেন বলেছেন, বৃহস্পতিবার পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রীবাহী কপোতাক্ষ ট্রেনে নতুন ইঞ্জিন ৮টি ইঞ্জন প্রথমবারের মতো সংযুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই ইঞ্জিন দিয়ে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস চালানোর কথা রয়েছে। জানা গিয়েছে ‘আমেরিকার তৈরি ৩,৩০০ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিনের চালকের কক্ষ এসি, ইঞ্জিনের সামনে ও পেছনে সিসি ক্যামেরা, রাতে আলোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এলইডি লাইট, প্রতি ঘণ্টায় গতি ১৪০ কিলোমিটার’।
‘বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান ৩০১৮.৮৮ কিলোমিটার রেলওয়ে নেটওয়ার্ক রয়েছে। যার মধ্যে ৮৩১.৫৪ কিলোমিটার ব্রড গেজ, ১৬৫২.১৫ কিলোমিটার মিটার গেজ এবং ৫৩৫.১৯ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেল লাইন। পরিসরের দিক দিয়ে ছোট হলেও জন্মলগ্ন থেকেই জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের। রাষ্ট্রীয় এই পরিবহন সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাকাল ১৫ নভেম্বর ১৮৬২’



















