Bangamata : ইতিহাসের সাহসী মানুষ ‘বঙ্গমাতা’
- আপডেট সময় : ০৯:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ অগাস্ট ২০২২ ২৫৮ বার পড়া হয়েছে
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ৯২তম জন্মদিনে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ এর আলোচনা অনুষ্ঠান
বঙ্গবন্ধুর পেছনের শক্তি ছিলেন বঙ্গমাতা: পরিকল্পনামন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পেছনের শক্তি ছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার পেছনে বঙ্গমাতার ভূমিকা ছিল। জাতি আজ সেই মহীয়সী নারীকে স্মরণ করছে। বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। বঙ্গবন্ধু যেমন গ্রাম গঞ্জের দিকে তাকাতেন। ঠিক তেমনি তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রাম-গঞ্জের খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভাবেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যত ধরনের ষড়যন্ত্র হুমকি বা বিভ্রান্তি ছড়ানো হোক না কেন, আমরা বিশ্বাস করি আর পথ হারাবো না। আগামীতে নতুন নতুন চিন্তার ক্ষেত্রে আমরা আরও পথের দিশা পাবো। পথ হারাবো না।
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব-এর ৯২তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গমাতা: ইতিহাসের সাহসী মানুষ আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিতে সোমবারের আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন, বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি মাহফুজা খান, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী প্রমুখ।
অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, স্ত্রী যে কত বড় সহায় তা বঙ্গমাতার দিকে তাকালেই আমরা বুঝতে পারি। বঙ্গবন্ধুর ছায়া বৃক্ষ এই বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধুও কোনদিন বঙ্গমাতাকে অবজ্ঞা করেননি। বঙ্গবন্ধুর হৃদয়ে সারা জীবন বিরাজ করেছেন বঙ্গমাতা।
বঙ্গবন্ধু বললেন হাসুর মার গ্রীন সিগন্যাল পেয়ে গেছে এখন আর ঠেকায় কে আমাকে। পর্দার আড়ালে থেকে ফজলুল কাদের চৌধুরীকে একদিন বঙ্গমাতা বললেন বঙ্গবন্ধুকে প্রয়োজনে জেলে দেন তবু আপস করবে না আপনাদের সঙ্গে। জেলের তালা ভাঙ্গার কাজটি করেছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। বঙ্গবন্ধু যা ছিলেন তার পেছনের শক্তি ছিলেন বঙ্গমাতা।
শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, খোকা যে সাধারণ মানুষ নন, সেটি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধুর সারা জীবন ছায়ার মতো ছিলেন বঙ্গমাতা। দু’জনের গভীর বন্ধন ও নির্ভরশীলতা ছিল জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। চলার পথে তাদেরকে আনুস্মরণ করে যেন চলতে পারি এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি মাহফুজা খানমের ভাষায়, আগস্ট মাস শুধু বাঙালির জন্য না যারা মানবতার জন্য লড়াই করে তাদের সবার শোকের মাস। অত্যন্ত মেধাবী ও ধীশক্তি অধিকারী ছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধুর চাওয়া পাওয়া ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছিলেন বঙ্গমাতা। বঙ্গমাতা জমির ধান বিক্রি করে বঙ্গবন্ধুর লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু জেলে থাকার মধ্য দিয়ে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বঙ্গমাতা হয়ে উঠেন।
ছয় দফা আন্দোলনে বঙ্গমাতার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর সকল অর্জনে বঙ্গমাতার ভূমিকা ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর জীবনের শ্রেষ্ঠ সহধর্মিনী বিশ্ব বিদ একই দিনে সময়ে শহীদ হলেন। বিশ্বের মানুষের কাছে তিনি মহীয়সী নারী হিসেবে বেঁচে থাকবেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন সাহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. বিমান বড়ুয়া, সাবেক ছাত্রনেতা মিহির কান্তি ঘোষাল প্রমূখ।
আলোচনা অনুষ্ঠানের সভাপতি পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবনের কঠিন কিছু মুহুর্তে বঙ্গমাতা বঙ্গবন্ধুকে গুরুত্বপূর্ন পরামর্শ প্রদান করেন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ৭ মার্চ এর ভাষণ দেয়ার দিনের কথা। গায়ে প্রচন্ড জর নিয়ে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্সে যাওয়ার আগ মুহুর্তে বঙ্গমাতা ঘরের দরজা বন্ধ করে জাতির পিতাকে বলেছিলেন, ‘‘আপনি আন্দোলন করেছেন জেল খেটেছেন। আপনার মন জানে কোনটা মঙ্গল। তাই মঞ্চে দাড়িয়ে আপনার মন যা বলতে বলবে ভাষনে আপনি তাই বলবেন।’’
এ সময় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিষয়টি সামনে এনে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আগরতলা মামলায় পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব দিলে বঙ্গমাতা দৃঢ়ভাবে তা’ প্রত্যাক্ষান করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে পরামর্শ দেন। জাতির ইতিহাসে বাঁক পরিবর্তনের কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বঙ্গবন্ধুকে ছায়াসঙ্গী হিসেবে সাথে থেকেছেন বঙ্গমাতা।



















