ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উপসাগরে নতুন উত্তেজনা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে মুখোমুখি ইরান-আমিরাত বাংলাদেশ-কাতার জ্বালানি ও অর্থখাতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মতি কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু পদত্যাগ করছেন পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের ভাগ্যবদলের স্বপ্নে ঘরছাড়া ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি উদ্যোগ পরিবর্তনের এপ্রিল-মার্চ হচ্ছে নতুন অর্থবছর সমঝোতার মেয়াদ শেষ ইরানকে ‘সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ’ করতে বললেন ট্রাম্প ঘুরে দাঁড়ানোর ছয় মাস “ধ্বংসস্তূপ সামলে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রযন্ত্র পুনর্গঠনের পথে সরকার” মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বছরে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি আয়: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে  ফেরনোর প্রক্রিয়া ভারতের সিদ্ধান্ত : চিফ প্রসিকিউটর

বাংলাদেশ ২০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে শ্রীলঙ্কাকে

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:২২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মে ২০২১ ৩০৯ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলঙ্কার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা যখন বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে ভুগছে, তখন পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর ক্ষেত্রে একের পর এক রেকর্ড গড়ছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে গৃহযুদ্ধের ক্ষত, উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত বৈদেশিক ঋণসহ নানা কারণে বেশ চাপে রয়েছে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি। বর্তমানে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমে গিয়েছে ৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।

এদিকে মহামারি করোনার মাঝেও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এ অবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রথমবারের মতো ঋণ দিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে এরই মধ্যে সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে। তবে কারেন্সি সোয়াপ-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের খসড়াটি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকে ভেটিংয়ের পর চূড়ান্ত হবে।’

বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা সরকার ও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে কারেন্সি সোয়াপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর হলে এটিই হবে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন। এটি হবে কোনও দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কারেন্সি সোয়াপের প্রথম ঘটনা।

জানা গেছে, সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ২০ কোটি ডলার ধার দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ধারের জন্য ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে লাইবরের (লন্ডন আন্তব্যাংক সুদের হার) সঙ্গে অতিরিক্ত ২ শতাংশ সুদ যুক্ত করে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংককে পরিশোধ করবে।

তিন মাসের বেশি সময়ের জন্য দিতে হবে লাইবরের সঙ্গে অতিরিক্ত আড়াই শতাংশ সুদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্যারান্টি দেবে শ্রীলঙ্কার সরকার ও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি ২০ কোটি ডলার সমমূল্যের শ্রীলঙ্কান রুপি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে লিয়েন হিসেবে জমা থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে শ্রীলঙ্কা থেকে বাংলাদেশে রফতানিকৃত পণ্যের মূল্য স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধ করবে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলঙ্কা।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৪৫ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। রিজার্ভের এই অর্থ থেকে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ২০ কোটি ডলার ধার দেওয়া হবে। বিপরীতে দেশটির সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্যারান্টার হবে। সবদিক বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ বিনিয়োগ বেশ নিরাপদ, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশ ২০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে শ্রীলঙ্কাকে

আপডেট সময় : ০৯:২২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মে ২০২১

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলঙ্কার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা যখন বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে ভুগছে, তখন পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর ক্ষেত্রে একের পর এক রেকর্ড গড়ছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে গৃহযুদ্ধের ক্ষত, উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত বৈদেশিক ঋণসহ নানা কারণে বেশ চাপে রয়েছে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি। বর্তমানে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমে গিয়েছে ৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।

এদিকে মহামারি করোনার মাঝেও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এ অবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রথমবারের মতো ঋণ দিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে এরই মধ্যে সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে। তবে কারেন্সি সোয়াপ-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের খসড়াটি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকে ভেটিংয়ের পর চূড়ান্ত হবে।’

বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা সরকার ও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে কারেন্সি সোয়াপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর হলে এটিই হবে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন। এটি হবে কোনও দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কারেন্সি সোয়াপের প্রথম ঘটনা।

জানা গেছে, সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ২০ কোটি ডলার ধার দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ধারের জন্য ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে লাইবরের (লন্ডন আন্তব্যাংক সুদের হার) সঙ্গে অতিরিক্ত ২ শতাংশ সুদ যুক্ত করে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংককে পরিশোধ করবে।

তিন মাসের বেশি সময়ের জন্য দিতে হবে লাইবরের সঙ্গে অতিরিক্ত আড়াই শতাংশ সুদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্যারান্টি দেবে শ্রীলঙ্কার সরকার ও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি ২০ কোটি ডলার সমমূল্যের শ্রীলঙ্কান রুপি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে লিয়েন হিসেবে জমা থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে শ্রীলঙ্কা থেকে বাংলাদেশে রফতানিকৃত পণ্যের মূল্য স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধ করবে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলঙ্কা।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৪৫ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। রিজার্ভের এই অর্থ থেকে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ২০ কোটি ডলার ধার দেওয়া হবে। বিপরীতে দেশটির সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্যারান্টার হবে। সবদিক বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ বিনিয়োগ বেশ নিরাপদ, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।