মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে দেবী সিঁদুরখেলা, উলুধ্বনি আর বিদায়ের সুরে শেষ দুর্গোৎসব
- আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে
শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফর করেন প্রধানমন্ত্রী
ঢাকার ৩৩ পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন, ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবের শেষ দিনে রাজধানী ঢাকার ৩৩টি পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরীতে ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং বিসর্জন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নেওয়া হয় বহুমাত্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশন) মো. শহীদুল্লাহ বুধবার পলাশী মোড়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা ও প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। উৎসবের বাকি কার্যক্রমও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর ৩৩টি নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাট এলাকায় সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নিতে প্রতিমাগুলো নির্ধারিত স্থানে জড়ো করা হয়।

নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে ডিএমপির ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট (এসআরইউ), সোয়াট ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিরাপত্তা ইউনিটও দায়িত্ব পালন করে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা দ্রুত মোকাবিলা করতে পুলিশ প্রস্তুত থাকার কথা জানায় ডিএমপির এই কর্মকর্তারা।
এবারের দুর্গাপূজায় শুরু থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা এবং পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পূজামণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং বিসর্জনকেন্দ্রিক জনসমাগম সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়। উৎসবের শেষ দিনেও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শোভাযাত্রার পথ এবং বিসর্জনস্থলকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। দুর্গাপূজাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানেও ছিল নানা আয়োজন। মহানবমীতে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফর করেন প্রধানমন্ত্রী।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনসহ বিভিন্ন স্থানে পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়া, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার মতো কর্মসূচি উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। এর আগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের বিষয়টিও উৎসবকেন্দ্রিক আলোচনায় গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, স্থানীয় আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং উপহার বিতরণের মতো কর্মসূচিও ছিল উৎসবের আলোচিত দিকগুলোর মধ্যে।
এবারের দুর্গোৎসবে পূজার সূচনা থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত ছিল নানা আনুষ্ঠানিকতা, আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং ধর্মীয় আয়োজন। ছুটির সময়সূচি ও উৎসবের আয়োজন নিয়েও মানুষের মধ্যে আগ্রহ ছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পূজামণ্ডপ সাজানো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দর্শনার্থীদের সমাগম এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসব উদ্যাপিত হয়। তবে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়টিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. শহীদুল্লাহ রাজধানীবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, সবাই যেন উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পূজার শেষ পর্ব সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন। প্রতিমা বিসর্জনের পুরো প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং জনদুর্ভোগ এড়িয়ে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তাও বহন করে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসবের সমাপ্তি নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।



















