ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৩:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, তেমনি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানও জাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ ধরনের ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কিংবা বিতর্ক উসকে দেওয়া দেশের জন্য কখনোই কল্যাণকর হতে পারে না।
তিনি বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি, একটি মহল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ সেই প্রচেষ্টাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেনি। কারণ, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতা, আত্মত্যাগ ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানও মানুষের অধিকার, আকাঙ্ক্ষা ও পরিবর্তনের প্রত্যাশার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মহল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাই, আসুন, আমরা এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না দেখে এর তাৎপর্য ও জনসম্পৃক্ততাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করি। জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ইতিহাসের প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাব বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়াই হোক আমাদের সবার অঙ্গীকার।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর ধর্মসভা-রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের সবার দেশ। এ দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে দল-মত, ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে সমান মর্যাদা ও অধিকার। তাই পারস্পরিক সহমর্মিতা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং দেশপ্রেম।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের নির্দিষ্ট সংসদ গঠিত হয়েছে, সেই সংসদে জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের পাঠিয়েছে। আপনাদের যদি কিছু বলার থাকে, তুলে ধরার থাকে, আপনারা সেখানে কথা বলুন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আজ আপনাদের এখানে আমি এসেছি এইটুক বলার জন্য যে, ১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে এই দেশটিকে স্বাধীন করেছিলাম, তখন কিন্তু আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি। প্রতিটি মানুষ, বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন পেশার মানুষ যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল।
ঠিক একইভাবে দেশ স্বাধীনের পর যখন বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র হুমকিস্বরূপ হয়েছিল, তখন এই দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল এবং যে মানুষগুলো নেমে এসেছিল, সেই মানুষদের ভেতরেও সকল ধর্মের মানুষই ছিল, সকল মত, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিল।
ঠিক একইভাবে, বেশিদিন আগের কথা নয়, দু-আড়াই বছর আগের কথা। বাংলাদেশে একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এদেশের ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ঘাড়ে যে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল, তাকে এদেশ থেকে তাড়িয়ে ছেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কথাগুলো আমার বলার মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই দেশটি হাজার বছর ধরে সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলেছে, শান্তিতে আমরা সকলে মিলে বসবাস করছি। আমরা চাই, বিগত হাজার বছর ধরে যেমন আমরা প্রতিটি ধর্মের মানুষ এ দেশে শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করেছি, আগামী হাজার বছরেও যাতে আমরা একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে পারি।
বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারকে এদেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। হতে পারে কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে, কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার যে ভোট দিয়েছে তারও সরকার হতে চায়, আর যে ভোট দেয়নি তারও সরকার হতে চায়।
অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এ দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এ দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদেরকে সকল বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, অতীতে যে রাজনীতি দেখেছি, তার পরিবর্তন আমরা করতে চাই।
এই পরিবর্তনের জন্য সরকার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ এবং এই জনগণকে আমরা বর্তমান সরকার অতীতের মতন বর্তমানেও পাশে দেখতে চাই।



















