সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ১২:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের ভিত্তিতে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে লড়াই করেছেন। এখন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্যও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
মঙ্গলবার রংপুরের পাগলাপীরে এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার দেশের খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি চালু করা হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড। এ ছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন শ্রেণির সম্মানিত ব্যক্তিদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজের প্রতিটি স্তরের পরিশ্রমী মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শারদীয় দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি আনন্দ ও উৎসবের সময়। এ ধরনের উৎসবকে কেন্দ্র করে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন। দেশের সব নাগরিকের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষই বাংলাদেশের নাগরিক। এ দেশ সবার, তাই দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের দায়িত্বও সবার। স্বাধীনতার সময় যেভাবে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন, একইভাবে এখন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কাজেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন কোনো একক গোষ্ঠীর প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সবার আন্তরিক অংশগ্রহণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সম্মিলিত পরিশ্রম। ধর্মীয় পরিচয় বা ভিন্নমত যেন জাতীয় ঐক্যের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দেশের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে হবে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ঐক্যবদ্ধ দায়িত্ববোধের মধ্য দিয়েই মানুষের প্রত্যাশার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সবার লক্ষ্য হোক একসঙ্গে কাজ করে এমন একটি দেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি নাগরিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিয়ে বসবাস করতে পারবেন।




















