ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মন্ত্রিসভায় নতুন পাঁচজন, কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রিসভায় ৬ নতুন মুখ ৯ মাস পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিদায় নিল ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া মার্কিন বিমানবাহী রণতরি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা সংগ্রামের মাঠ পেরিয়ে বঙ্গভবনে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল শপথ  সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন  করে চারজন প্রস্তুত বঙ্গভবন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান   দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদন ঢাকার চাপে অবস্থান বদলাচ্ছে ভারত উপসাগরে নতুন উত্তেজনা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে মুখোমুখি ইরান-আমিরাত বাংলাদেশ-কাতার জ্বালানি ও অর্থখাতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মতি

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রিসভায় ৬ নতুন মুখ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, কূটনীতিক, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসা হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলেছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদের দায়িত্ব বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করবেন, বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করবেন এবং সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করবেন। একই সঙ্গে তিনি ভীতি, অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে সবার প্রতি আইন অনুযায়ী যথাযথ আচরণ করার অঙ্গীকার করেন।

শপথ গ্রহণের পর তিনি শপথনামায় স্বাক্ষর করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তা সত্যায়ন করেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার এক দিন আগে, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একাধিক প্রার্থী থাকায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমান সংসদের ৩৪৯ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল।

২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: সংগ্রহ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে পাঁচ বছর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন তিনি। বিএনপির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা নেতাও মির্জা ফখরুল।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার কালীবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে তিনি ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মির্জা ফখরুল একজন সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং পরে ভারতে আশ্রয় নেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি সরকারি চাকরির অংশ হিসেবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।

মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার লক্ষ্যে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। দুই বছর পর ১৯৮৮ সালে নিজের জন্মস্থান ঠাকুরগাঁওয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। প্রথমে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পরে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতি ও সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ওই নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার একটি আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সে সময় তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পথ পেরিয়ে এবার দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রিসভায় ৬ নতুন মুখ

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, কূটনীতিক, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসা হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলেছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদের দায়িত্ব বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করবেন, বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করবেন এবং সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করবেন। একই সঙ্গে তিনি ভীতি, অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে সবার প্রতি আইন অনুযায়ী যথাযথ আচরণ করার অঙ্গীকার করেন।

শপথ গ্রহণের পর তিনি শপথনামায় স্বাক্ষর করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তা সত্যায়ন করেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার এক দিন আগে, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একাধিক প্রার্থী থাকায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমান সংসদের ৩৪৯ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল।

২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: সংগ্রহ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে পাঁচ বছর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন তিনি। বিএনপির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা নেতাও মির্জা ফখরুল।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার কালীবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে তিনি ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মির্জা ফখরুল একজন সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং পরে ভারতে আশ্রয় নেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি সরকারি চাকরির অংশ হিসেবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।

মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার লক্ষ্যে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। দুই বছর পর ১৯৮৮ সালে নিজের জন্মস্থান ঠাকুরগাঁওয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। প্রথমে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পরে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতি ও সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ওই নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার একটি আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সে সময় তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পথ পেরিয়ে এবার দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।