ঢাকা ০২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উপসাগরে নতুন উত্তেজনা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে মুখোমুখি ইরান-আমিরাত বাংলাদেশ-কাতার জ্বালানি ও অর্থখাতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মতি কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু পদত্যাগ করছেন পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের ভাগ্যবদলের স্বপ্নে ঘরছাড়া ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি উদ্যোগ পরিবর্তনের এপ্রিল-মার্চ হচ্ছে নতুন অর্থবছর সমঝোতার মেয়াদ শেষ ইরানকে ‘সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ’ করতে বললেন ট্রাম্প ঘুরে দাঁড়ানোর ছয় মাস “ধ্বংসস্তূপ সামলে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রযন্ত্র পুনর্গঠনের পথে সরকার” মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বছরে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি আয়: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে  ফেরনোর প্রক্রিয়া ভারতের সিদ্ধান্ত : চিফ প্রসিকিউটর

কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চিকিৎসা নিয়ে ফেরা হলো না তাদের

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত নয়জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। তারা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

বুধবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় থাকা হোটেল শিখা ইন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন ও ধোঁয়া ভবনের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।  ভবনের বিভিন্ন তলায় আরও কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে বলে জানা গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ ঘরগুলো ধোঁয়ায় ভরে গেলে তারা আতঙ্কিত হয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভবনটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সরু হওয়ায় উদ্ধারকাজে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাইরে থেকে আগুনের শিখা খুব একটা দেখা না গেলেও ভবন থেকে প্রচুর কালো ধোঁয়া বের হচ্ছিল।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পুলিশের পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। ভবনটি সরু গলির ভেতরে হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলের খুব বেশি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে প্রথমে বাইরে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। পরে দমকলকর্মীরা ভবনের ভেতরে ঢুকে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা ভবনটি থেকে প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই ধোঁয়ায় অসুস্থ বা অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের শরীরে গুরুতর পোড়া বা ঝলসে যাওয়ার চিহ্ন তেমন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘন ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অগ্নিকাণ্ডে আহতদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আগুনের খবর পাওয়ার পর হোটেলের অতিথিরা দ্রুত বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘন ধোঁয়ার কারণে সিঁড়ি ও বের হওয়ার পথ দেখা যাচ্ছিল না। কেউ কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য টয়লেটে ঢুকে পড়েন, আবার কয়েকজন জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

একজন উদ্ধার পাওয়া অতিথির ভাষ্য অনুযায়ী, দমকলকর্মীরা সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় অনেকের জীবন রক্ষা পেয়েছে। ভবনের চতুর্থ তলার এক অতিথি জানান, রাত সোয়া ২টার দিকে দুই নারীর চিৎকারে তাদের ঘুম ভাঙে। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ধোঁয়া ঢুকে পড়ে। পরে সরু বারান্দা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও ধোঁয়ার কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

ভবনের সর্বোচ্চ তলায় বসবাসকারী একটি পরিবারকেও উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, তাদের নিচে নামানোর সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল।

অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনের হোটেলগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। নিয়ম মেনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপনের বিষয়ে আগে সতর্ক করা হলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি, এমন অভিযোগও রয়েছে।

আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। আবার একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে ত্রুটি বা বিস্ফোরণ থেকেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, হোটেল পরিচালনার অনুমোদন এবং ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছেন। ভবনটি ঘনবসতিপূর্ণ ও সরু গলির মধ্যে হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো কতটা সম্ভব ছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহল থেকেও ভবনটির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, মূলত আবাসিক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্মিত ভবনটি পরবর্তী সময়ে অনুমোদন ও নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে না মেনে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

এমনকি ভবনের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত কক্ষ তৈরির জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

ঘটনার পর পুলিশ ভবন ও আশপাশের এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা ও পরিচয় নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

কলকাতার নিউ মার্কেট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকায় চিকিৎসার জন্য যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের থাকার জন্য বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। ফলে  এখানে থাকা হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সরু গলি, একাধিক হোটেল এবং সীমিত জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা থাকলে আগুন বা ধোঁয়ার মতো পরিস্থিতিতে প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এ ঘটনায় নয় বাংলাদেশির মৃত্যু কলকাতায় চিকিৎসার জন্য যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের আবাসন নিরাপত্তা এবং এসব হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সামনে এনেছে। তদন্ত শেষ হলে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা আরও স্পষ্ট হবে।

 

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

আপডেট সময় : ১১:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

চিকিৎসা নিয়ে ফেরা হলো না তাদের

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত নয়জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। তারা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

বুধবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় থাকা হোটেল শিখা ইন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন ও ধোঁয়া ভবনের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।  ভবনের বিভিন্ন তলায় আরও কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে বলে জানা গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ ঘরগুলো ধোঁয়ায় ভরে গেলে তারা আতঙ্কিত হয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভবনটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সরু হওয়ায় উদ্ধারকাজে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাইরে থেকে আগুনের শিখা খুব একটা দেখা না গেলেও ভবন থেকে প্রচুর কালো ধোঁয়া বের হচ্ছিল।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পুলিশের পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। ভবনটি সরু গলির ভেতরে হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলের খুব বেশি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে প্রথমে বাইরে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। পরে দমকলকর্মীরা ভবনের ভেতরে ঢুকে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা ভবনটি থেকে প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই ধোঁয়ায় অসুস্থ বা অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের শরীরে গুরুতর পোড়া বা ঝলসে যাওয়ার চিহ্ন তেমন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘন ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অগ্নিকাণ্ডে আহতদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আগুনের খবর পাওয়ার পর হোটেলের অতিথিরা দ্রুত বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘন ধোঁয়ার কারণে সিঁড়ি ও বের হওয়ার পথ দেখা যাচ্ছিল না। কেউ কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য টয়লেটে ঢুকে পড়েন, আবার কয়েকজন জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

একজন উদ্ধার পাওয়া অতিথির ভাষ্য অনুযায়ী, দমকলকর্মীরা সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় অনেকের জীবন রক্ষা পেয়েছে। ভবনের চতুর্থ তলার এক অতিথি জানান, রাত সোয়া ২টার দিকে দুই নারীর চিৎকারে তাদের ঘুম ভাঙে। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ধোঁয়া ঢুকে পড়ে। পরে সরু বারান্দা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও ধোঁয়ার কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

ভবনের সর্বোচ্চ তলায় বসবাসকারী একটি পরিবারকেও উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, তাদের নিচে নামানোর সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল।

অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনের হোটেলগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। নিয়ম মেনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপনের বিষয়ে আগে সতর্ক করা হলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি, এমন অভিযোগও রয়েছে।

আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। আবার একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে ত্রুটি বা বিস্ফোরণ থেকেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, হোটেল পরিচালনার অনুমোদন এবং ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছেন। ভবনটি ঘনবসতিপূর্ণ ও সরু গলির মধ্যে হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো কতটা সম্ভব ছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহল থেকেও ভবনটির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, মূলত আবাসিক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্মিত ভবনটি পরবর্তী সময়ে অনুমোদন ও নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে না মেনে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

এমনকি ভবনের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত কক্ষ তৈরির জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

ঘটনার পর পুলিশ ভবন ও আশপাশের এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা ও পরিচয় নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

কলকাতার নিউ মার্কেট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকায় চিকিৎসার জন্য যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের থাকার জন্য বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। ফলে  এখানে থাকা হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সরু গলি, একাধিক হোটেল এবং সীমিত জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা থাকলে আগুন বা ধোঁয়ার মতো পরিস্থিতিতে প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এ ঘটনায় নয় বাংলাদেশির মৃত্যু কলকাতায় চিকিৎসার জন্য যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের আবাসন নিরাপত্তা এবং এসব হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সামনে এনেছে। তদন্ত শেষ হলে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা আরও স্পষ্ট হবে।