ইরানে হামলা হলে ইসরায়েলকে ‘কোনো রেহাই’ দেওয়া হবে না: তেহরানের কড়া হুঁশিয়ারি
- আপডেট সময় : ০৮:১১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
ইরানের কোনো সামরিক, পারমাণবিক বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলে ইসরায়েলকে ‘কোনো রেহাই’ দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব আরও কঠোর ও লক্ষ্যভিত্তিকভাবে দেওয়া হবে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার (১০ জুলাই) এ সতর্কবার্তা দেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর।
তিনি বলেন, ইরানের স্থাপনা লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তার তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে তেহরান কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে জানান।
জোলঘাদর আরও বলেন, ইরানের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কৌশলগত অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও পাল্টা হামলার অভিযোগ তুলছে। ফলে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।
তবে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে কাতার সক্রিয় মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আঞ্চলিক সংঘাত যাতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ না নেয়, সে লক্ষ্যেই দেশটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্য উসকানিও মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। তাই সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগই উত্তেজনা প্রশমনের সবচেয়ে কার্যকর পথ বলে মনে করা হচ্ছে।



















