বৃষ্টির অজুহাতে সবজির বাজার উর্ধমুখী, স্থিতিশীল মুরগির দাম
- আপডেট সময় : ০১:৫৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে টানা বৃষ্টিকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে হঠাৎ করেই বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। বিক্রেতাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারণে ক্ষেতের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ঢাকায় সবজির ট্রাক কম আসছে। এর প্রভাবেই প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
অন্যদিকে, সবজির বাজার অস্থির হলেও মুরগির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত সপ্তাহের দামেই রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার, সোনালি ও দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সবজির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৪০ টাকা
বাজার ঘুরে দেখা যায়, করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।
বেগুনের দামও বেড়েছে। প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা বেশি। এছাড়া কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, সজনে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
টমেটো বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। মুলার দাম ৭০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচামরিচের দামেও বড় উল্লম্ফন
কাঁচামরিচের দাম কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা বেড়ে এখন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ৩০ টাকায়। দেশি ধনেপাতার কেজি ২৫০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১৮০ টাকা। কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৬০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে মুরগি
সবজির দাম বাড়লেও মুরগির বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে সোনালি কক মুরগি ৩৩০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩০০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৪০ টাকা, ব্রয়লার ১৬৫ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শাকের বাজার
লাল শাক প্রতি আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আলু-পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল
বাজারে আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজার
গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও চড়া দাম
ইলিশের দাম এখনও বেশ উচ্চ। ৩০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি ইলিশ ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কৈ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৪০০ টাকা এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজার
এক ডজন লাল মুরগির ডিম ১২০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের দাবি
বিক্রেতারা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে কৃষিজমির ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকায় সবজির সরবরাহ কমেছে। ফলে বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
ক্রেতাদের ক্ষোভ
মিরপুরের শেওড়াপাড়া বাজারের নিয়মিত ক্রেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, “আকাশে মেঘ দেখলেই পণ্যের দাম বেড়ে যায়। বৃষ্টি হলে বলা হয় মাল আসে না। অথচ বাজারে এসে দেখি সব দোকানেই পর্যাপ্ত সবজি রয়েছে, শুধু দামটাই বেড়েছে।”
বাজার বিশ্লেষকদের মত
সাধারণ ক্রেতা ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে সরবরাহে কিছুটা সমস্যা তৈরি হলেও যে হারে সবজির দাম বাড়ানো হয়েছে তা যৌক্তিক নয়। তাদের দাবি, নিয়মিত ও কার্যকর বাজার তদারকির অভাবেই অসাধু ব্যবসায়ীরা আবহাওয়াকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন, যার চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।



















