ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় দেশে ফিরেই ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা পেল মিসর দল ইরানে হামলা হলে ইসরায়েলকে ‘কোনো রেহাই’ দেওয়া হবে না: তেহরানের কড়া হুঁশিয়ারি বন্যা পিরিস্থিতর অবণিত চট্টগ্রামে শনিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টি মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা পাহাড়ধস ও বন্যা চট্টগ্রাম বিভাগে ভয়াবহ বিপর্যয় প্রাণহানি বেড়ে ৩৫ পানিবন্দি লাখো মানুষ বৃষ্টির অজুহাতে সবজির বাজার উর্ধমুখী, স্থিতিশীল মুরগির দাম   উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যশোরে এক তরুণকে গ্রেপ্তার পঞ্চদশ সংশোধনী ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট

পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টি মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:০২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত মনু ও ধলাই নদীর অন্তত পাঁচটি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।

মনু নদীর রাজনগর উপজেলার উজিরপুর ও একামধু এবং কুলাউড়া উপজেলার শিকরিয়া এলাকায় তিনটি স্থানে বাঁধ ভেঙেছে। এছাড়া কমলগঞ্জ উপজেলার মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে রাজনগর, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। টেংরা, পৃথিমপাশা, ইসলামপুর ও আদমপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ গবাদিপশু নিয়ে মনু নদীর বাঁধে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। পানির তীব্র স্রোতে বাঁধের ভাঙন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেসরকারি হিসাবে রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, যদিও সরকারি হিসাবে এ সংখ্যা প্রায় দুই হাজার।

এদিকে, রাজনগর উপজেলার আকুয়া গ্রামে ঢলের পানিতে ডুবে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন ভূঁইয়া। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা যায়নি।

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর-ইসলামপুর সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানি প্রবেশ করেছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, মনু নদীর রেলওয়ে পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে এবং বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে মনু ও ধলাই নদীর আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার জানান, ভেঙে যাওয়া বাঁধ তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করার মতো পরিস্থিতি নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মানুষকে গবাদিপশুসহ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় ইতোমধ্যে ৯১৫ ব্যাগ শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও ত্রাণ ও খাদ্যসহায়তা প্রদান করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টি মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

আপডেট সময় : ০৮:০২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত মনু ও ধলাই নদীর অন্তত পাঁচটি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।

মনু নদীর রাজনগর উপজেলার উজিরপুর ও একামধু এবং কুলাউড়া উপজেলার শিকরিয়া এলাকায় তিনটি স্থানে বাঁধ ভেঙেছে। এছাড়া কমলগঞ্জ উপজেলার মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে রাজনগর, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। টেংরা, পৃথিমপাশা, ইসলামপুর ও আদমপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ গবাদিপশু নিয়ে মনু নদীর বাঁধে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। পানির তীব্র স্রোতে বাঁধের ভাঙন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেসরকারি হিসাবে রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, যদিও সরকারি হিসাবে এ সংখ্যা প্রায় দুই হাজার।

এদিকে, রাজনগর উপজেলার আকুয়া গ্রামে ঢলের পানিতে ডুবে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন ভূঁইয়া। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা যায়নি।

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর-ইসলামপুর সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানি প্রবেশ করেছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, মনু নদীর রেলওয়ে পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে এবং বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে মনু ও ধলাই নদীর আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার জানান, ভেঙে যাওয়া বাঁধ তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করার মতো পরিস্থিতি নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মানুষকে গবাদিপশুসহ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় ইতোমধ্যে ৯১৫ ব্যাগ শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও ত্রাণ ও খাদ্যসহায়তা প্রদান করা হবে।