ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় দেশে ফিরেই ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা পেল মিসর দল ইরানে হামলা হলে ইসরায়েলকে ‘কোনো রেহাই’ দেওয়া হবে না: তেহরানের কড়া হুঁশিয়ারি বন্যা পিরিস্থিতর অবণিত চট্টগ্রামে শনিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টি মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা পাহাড়ধস ও বন্যা চট্টগ্রাম বিভাগে ভয়াবহ বিপর্যয় প্রাণহানি বেড়ে ৩৫ পানিবন্দি লাখো মানুষ বৃষ্টির অজুহাতে সবজির বাজার উর্ধমুখী, স্থিতিশীল মুরগির দাম   উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যশোরে এক তরুণকে গ্রেপ্তার পঞ্চদশ সংশোধনী ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট

চট্টগ্রামে ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নগর জীবন

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামে ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নগর জীবন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম নগরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল। সেই হিসাবে সোমবার বিকাল ৩টা থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টি দেশের বন্দরনগরীর ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

প্রবল বর্ষণের সঙ্গে জোয়ারের পানি যুক্ত হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ডুবে গেছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। রেললাইনে পানি জমে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনও আটকা পড়ে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানান, এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল, যা চট্টগ্রামে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড।

রোববার সকাল থেকে চট্টগ্রামে বৃষ্টি শুরু হয়। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৪০ মিলিমিটার। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয় ২০৬ মিলিমিটার। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয় জোয়ারের পানি। ফলে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জোয়ার শুরু হলে ভারি বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি খাল হয়ে নদী ও সাগরে নামতে পারেনি। এতে অল্প সময়ের মধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানির উচ্চতা বাড়তে থাকে।

জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে নগরীর পোর্ট কানেকটিং সড়কের হালিশহর আবাসিক এলাকা থেকে নয়া বাজার পর্যন্ত অংশ, অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের বড় দিঘির পাড় এলাকা এবং আরাকান সড়কের সিঅ্যান্ডবি ও মৌলভী পুকুর পাড়ের অংশ। এছাড়া আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক, পাঁচলাইশ, কাপাসগোলা, চকবাজার, রামপুর, বাটালি রোড, কাস্টম হাউজ, জামালখান বাই লেইন, রহমতগঞ্জ, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়।

নগরীর বেশির ভাগ খালের পানি উপচে সড়কে চলে আসে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত কয়েকটি স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হলেও অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।

অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের বড় দিঘির পাড় এলাকায় কোমর সমান পানি জমে যায়। সেখানে স্থানীয়দের পানিতে মাছ ধরতেও দেখা যায়। আরাকান সড়ক ও পোর্ট কানেকটিং রোডে পানির মধ্য দিয়েই যানবাহন চলাচল করতে থাকে।

অতি ভারি বৃষ্টিতে নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় একটি বাইপাস সড়কের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ষোলশহর এলাকায় রেললাইনে পানি জমে প্রায় সাড়ে ছয়শ যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়ে।

বিকালেও চট্টগ্রামের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নগরীতে আবারও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে জনজীবন আরও দুর্ভোগের মুখে পড়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চট্টগ্রামে ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নগর জীবন

আপডেট সময় : ০৮:২৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল। সেই হিসাবে সোমবার বিকাল ৩টা থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টি দেশের বন্দরনগরীর ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

প্রবল বর্ষণের সঙ্গে জোয়ারের পানি যুক্ত হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ডুবে গেছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। রেললাইনে পানি জমে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনও আটকা পড়ে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানান, এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল, যা চট্টগ্রামে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড।

রোববার সকাল থেকে চট্টগ্রামে বৃষ্টি শুরু হয়। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৪০ মিলিমিটার। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয় ২০৬ মিলিমিটার। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয় জোয়ারের পানি। ফলে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জোয়ার শুরু হলে ভারি বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি খাল হয়ে নদী ও সাগরে নামতে পারেনি। এতে অল্প সময়ের মধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানির উচ্চতা বাড়তে থাকে।

জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে নগরীর পোর্ট কানেকটিং সড়কের হালিশহর আবাসিক এলাকা থেকে নয়া বাজার পর্যন্ত অংশ, অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের বড় দিঘির পাড় এলাকা এবং আরাকান সড়কের সিঅ্যান্ডবি ও মৌলভী পুকুর পাড়ের অংশ। এছাড়া আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক, পাঁচলাইশ, কাপাসগোলা, চকবাজার, রামপুর, বাটালি রোড, কাস্টম হাউজ, জামালখান বাই লেইন, রহমতগঞ্জ, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়।

নগরীর বেশির ভাগ খালের পানি উপচে সড়কে চলে আসে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত কয়েকটি স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হলেও অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।

অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের বড় দিঘির পাড় এলাকায় কোমর সমান পানি জমে যায়। সেখানে স্থানীয়দের পানিতে মাছ ধরতেও দেখা যায়। আরাকান সড়ক ও পোর্ট কানেকটিং রোডে পানির মধ্য দিয়েই যানবাহন চলাচল করতে থাকে।

অতি ভারি বৃষ্টিতে নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় একটি বাইপাস সড়কের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ষোলশহর এলাকায় রেললাইনে পানি জমে প্রায় সাড়ে ছয়শ যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়ে।

বিকালেও চট্টগ্রামের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নগরীতে আবারও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে জনজীবন আরও দুর্ভোগের মুখে পড়ে।