ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক বছরে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি মায়ের ছোট্ট অনুরোধে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে শিশুদের ‘খেলা ঘর’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা কক্মাসবাজার তারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৬২.২৫ শতাংশ নদী মরছে, বিপন্ন হচ্ছে নগরসভ্যতা থেমে গেছে প্রতিদিনের হাঁটা ১১ পলিথিনে খন্ডিত মরদেহ মেলেনি মাথা-পা বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত প্রধানমন্ত্রীর উপহার সিএনজি-রিকশা পেলেন জুলাইযোদ্ধারা

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা হাজারো স্বপ্ন, উদ্ধার ১,৪৩০ মরদেহ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ ১১৬ বার পড়া হয়েছে

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিতদের সন্ধান করছেন এল সালভাদরের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। গত শুক্রবার লা গুইরায়ছবি: রয়টার্স

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জনে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ২৩৮ জন। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং অন্তত ১৭২ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত অবস্থায় আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে এলেও উদ্ধারকর্মী, সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা জীবন বাজি রেখে ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ। উদ্ধার অভিযান চলাকালে গত শুক্রবার আবারও ৪ দশমিক ৯ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হয়, যা কারাকাস ও মারাকাই শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুইরা রাজ্যে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের ধীরগতিকে ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছে। ভারী যন্ত্রপাতির সংকট এবং পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তার অভাবে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা খালি হাতেই কংক্রিট সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

লা গুইরার বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওস জানান, আটটি টাওয়ারবিশিষ্ট ‘হুগো চাভেজ’ আবাসন কমপ্লেক্সের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলে এবং আরও পাঁচজন স্বজন আটকে আছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষ নিজেরাই অনেককে জীবিত উদ্ধার করেছে। কিন্তু বড় বড় কংক্রিটের স্ল্যাব সরাতে ক্রেন প্রয়োজন। ভেতরে এখনো মানুষ বেঁচে থাকতে পারেন।

জাতিসংঘের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূকম্পন।

ভূমিকম্পে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে মহাসড়ক। বহু বহুতল ভবন মুহূর্তেই ধসে পড়ে কংক্রিট ও লোহার স্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধারকারীদের সুবিধার্থে ধ্বংসস্তূপের ওপর স্প্রে-পেইন্ট দিয়ে ভবনের নাম লিখে রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে কারাকাস ও ভ্যালেন্সিয়া থেকে মোটরসাইকেলে করে খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক।

তবে অতিরিক্ত মানুষের ভিড়ে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাধারণ মানুষকে লা গুইরায় না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারি ও নিবন্ধিত উদ্ধারকারী দল ছাড়া অন্য সবার জন্য রাত ৮টার পর দুর্গত এলাকায় প্রবেশও সীমিত করা হয়েছে।

এরই মধ্যে দুর্গত এলাকায় কিছু স্থানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি খুবই সীমিত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই দুর্যোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্যও বড় রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ দুর্গতদের জন্য ব্যাপক ত্রাণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তেলমন্ত্রী পলা হেনাও জানিয়েছেন, ভয়াবহ ভূমিকম্প সত্ত্বেও দেশের তেল উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং তেল খাতের বড় ধরনের কোনো অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়নি।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে, পাশাপাশি দেশটির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কথাও জানিয়েছে। উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী দুটি জাহাজ পাঠানোর পাশাপাশি হেলিকপ্টার ও বিমান মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে প্রতিটি মুহূর্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ। স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় হাজারো পরিবার এখনো ধ্বংসস্তূপের পাশে প্রহর গুনছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা হাজারো স্বপ্ন, উদ্ধার ১,৪৩০ মরদেহ

আপডেট সময় : ০৬:৫১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জনে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ২৩৮ জন। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং অন্তত ১৭২ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত অবস্থায় আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে এলেও উদ্ধারকর্মী, সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা জীবন বাজি রেখে ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ। উদ্ধার অভিযান চলাকালে গত শুক্রবার আবারও ৪ দশমিক ৯ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হয়, যা কারাকাস ও মারাকাই শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুইরা রাজ্যে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের ধীরগতিকে ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছে। ভারী যন্ত্রপাতির সংকট এবং পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তার অভাবে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা খালি হাতেই কংক্রিট সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

লা গুইরার বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওস জানান, আটটি টাওয়ারবিশিষ্ট ‘হুগো চাভেজ’ আবাসন কমপ্লেক্সের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলে এবং আরও পাঁচজন স্বজন আটকে আছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষ নিজেরাই অনেককে জীবিত উদ্ধার করেছে। কিন্তু বড় বড় কংক্রিটের স্ল্যাব সরাতে ক্রেন প্রয়োজন। ভেতরে এখনো মানুষ বেঁচে থাকতে পারেন।

জাতিসংঘের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূকম্পন।

ভূমিকম্পে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে মহাসড়ক। বহু বহুতল ভবন মুহূর্তেই ধসে পড়ে কংক্রিট ও লোহার স্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধারকারীদের সুবিধার্থে ধ্বংসস্তূপের ওপর স্প্রে-পেইন্ট দিয়ে ভবনের নাম লিখে রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে কারাকাস ও ভ্যালেন্সিয়া থেকে মোটরসাইকেলে করে খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক।

তবে অতিরিক্ত মানুষের ভিড়ে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাধারণ মানুষকে লা গুইরায় না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারি ও নিবন্ধিত উদ্ধারকারী দল ছাড়া অন্য সবার জন্য রাত ৮টার পর দুর্গত এলাকায় প্রবেশও সীমিত করা হয়েছে।

এরই মধ্যে দুর্গত এলাকায় কিছু স্থানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি খুবই সীমিত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই দুর্যোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্যও বড় রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ দুর্গতদের জন্য ব্যাপক ত্রাণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তেলমন্ত্রী পলা হেনাও জানিয়েছেন, ভয়াবহ ভূমিকম্প সত্ত্বেও দেশের তেল উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং তেল খাতের বড় ধরনের কোনো অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়নি।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে, পাশাপাশি দেশটির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কথাও জানিয়েছে। উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী দুটি জাহাজ পাঠানোর পাশাপাশি হেলিকপ্টার ও বিমান মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে প্রতিটি মুহূর্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ। স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় হাজারো পরিবার এখনো ধ্বংসস্তূপের পাশে প্রহর গুনছে।