রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সক্রিয় সমর্থন কামনা: প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৭:২২:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে
ঢাকায় নিযুক্ত অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) সদস্যভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সক্রিয় সমর্থন কামনা করেন তিনি।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তবে এ সংকট শুধু বাংলাদেশের একার নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক ও মানবিক সমস্যা।
তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এ বিষয়ে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর অব্যাহত সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সমর্থনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বিশেষ করে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, টেক্সটাইল ও ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রতিনিধিরা।
প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময় থেকে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সুদৃঢ় সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং আগামী দিনে এ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বা ‘পিপল টু পিপল কন্টাক্ট’ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, পারস্পরিক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক যোগাযোগ বাড়লে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, আলজেরিয়া, ব্রুনাই, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মরক্কো, ওমান, পাকিস্তান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইরান, ইরাক ও লিবিয়ার হেড অব মিশনও বৈঠকে অংশ নেন।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব মু. ফরহাদুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।


















