শান্তি আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা: বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম
- আপডেট সময় : ১১:০৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে।
রবিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) এর দামও ৩ দশমিক ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি বাজারে এটি অন্যতম বড় মূল্যবৃদ্ধি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই এখানে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মার্কিন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ফক্স নিউজ সানডে-তে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবে একটি স্পষ্ট রেড লাইন নির্ধারণ করেছে। তবে ইরান সেই প্রস্তাবের জবাব দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে, তাদের জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় সমস্যার মুখে পড়তে পারে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। গত শুক্রবার অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে ইরানি পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানির গড় মূল্য এখন ৪ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ৩ ডলারেরও কম। ফলে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপ এখন বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাতেও বড় প্রভাব ফেলছে।
















