মোহাম্মদপুরে ৯ হত্যা: সাবেক মন্ত্রী নানকসহ ২৮ জনের বিচার শুরু
- আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একইসঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম, তারেক আবদুল্লাহ, সহিদুল ইসলাম সরদার ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
শুনানি শেষে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের যে ‘ওপেন নির্দেশনা’ দেওয়া হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে মোহাম্মদপুরে কিশোর ফারহান ফাইয়াজকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
ফাইয়াজ হত্যাসহ ১৮ ও ১৯ জুলাইয়ের বিভিন্ন ঘটনায় শেখ হাসিনা, তাপসসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
এদিন সকালে মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল এবং সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।
শুনানিতে বিচারক মো. মোহিতুল হক ২৮ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান। পরে কাঠগড়ায় থাকা চার আসামির কাছে দোষ স্বীকারের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নৃশংস হামলা চালায়।
আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উপস্থিতিতে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত ও ফারহান ফাইয়াজসহ মোট ৯ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও অনেকে।
মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশনুল হক, এম এ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হুদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম।



















