ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোরবানির পশুর হাটে জাল নোট প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ নির্দেশনা ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে ‘টানাটানি’ ট্রাম্প-পুতিনের, কোন দিকে যাবে তেহরান? বাংলাদেশ থেকে পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য আমদানিতে আগ্রহী ইতালি মার্কিন আদালতের রায়েও বহাল ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক, নতুন অনিশ্চয়তায় রফতানিকারকরা পুলিশের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুনে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসাবে যোগ দেবেন দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদের পদত্যাগ হামে মৃত্যু: ৩৫২ শিশুর পরিবারকে দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট মোহাম্মদপুরে ৯ হত্যা: সাবেক মন্ত্রী   নানকসহ ২৮ জনের বিচার শুরু দেশে শান্তি ও গণতন্ত্র রক্ষায় মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডলার নয়, ইউয়ানে লেনদেন হলে খুলতে পারে হরমুজ প্রণালি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

ডলার নয়, ইউয়ানে লেনদেন হলে খুলতে পারে হরমুজ প্রণালি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার নিয়ে নতুন শর্ত বিবেচনা করছে ইরান। তেলবাহী ট্যাংকারের লেনদেন যদি চীনের মুদ্রা ইউয়ানে সম্পন্ন হয়, তাহলে নির্দিষ্ট কিছু জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন–এর এক প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল নিয়ে একটি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে তেহরান। পরিকল্পনাটি মূলত তেল বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে বিকল্প মুদ্রা ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ওই ইরানি কর্মকর্তা জানান, যদি তেলের কার্গো বা লেনদেন চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সম্পন্ন করা হয়, তাহলে নির্দিষ্ট সংখ্যক তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, লেনদেনের মুদ্রাকে শর্ত হিসেবে ব্যবহার করে জলপথ ব্যবহারের নতুন একটি কাঠামো তৈরি করার চিন্তা করছে তেহরান।

বর্তমানে বৈশ্বিক তেল বাজার মূলত মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় অংশই ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান সেই প্রথা থেকে সরে এসে বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইরান একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে চীনের মুদ্রার ভূমিকা বাড়ানোর কৌশলও অনুসরণ করছে।

এর আগে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়াও তেল ও জ্বালানি পণ্যের লেনদেনে ডলারের বিকল্প হিসেবে রুশ মুদ্রা রুবল ও চীনা ইউয়ান ব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছে। একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চীনা মুদ্রার প্রভাব আরও বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে চাইছে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানির বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বা চলাচলের শর্ত আরোপ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, এই প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবহার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্র:মিডল ইস্ট আই, সিএনএন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ডলার নয়, ইউয়ানে লেনদেন হলে খুলতে পারে হরমুজ প্রণালি

আপডেট সময় : ০৭:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার নিয়ে নতুন শর্ত বিবেচনা করছে ইরান। তেলবাহী ট্যাংকারের লেনদেন যদি চীনের মুদ্রা ইউয়ানে সম্পন্ন হয়, তাহলে নির্দিষ্ট কিছু জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন–এর এক প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল নিয়ে একটি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে তেহরান। পরিকল্পনাটি মূলত তেল বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে বিকল্প মুদ্রা ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ওই ইরানি কর্মকর্তা জানান, যদি তেলের কার্গো বা লেনদেন চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সম্পন্ন করা হয়, তাহলে নির্দিষ্ট সংখ্যক তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, লেনদেনের মুদ্রাকে শর্ত হিসেবে ব্যবহার করে জলপথ ব্যবহারের নতুন একটি কাঠামো তৈরি করার চিন্তা করছে তেহরান।

বর্তমানে বৈশ্বিক তেল বাজার মূলত মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় অংশই ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান সেই প্রথা থেকে সরে এসে বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইরান একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে চীনের মুদ্রার ভূমিকা বাড়ানোর কৌশলও অনুসরণ করছে।

এর আগে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়াও তেল ও জ্বালানি পণ্যের লেনদেনে ডলারের বিকল্প হিসেবে রুশ মুদ্রা রুবল ও চীনা ইউয়ান ব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছে। একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চীনা মুদ্রার প্রভাব আরও বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে চাইছে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানির বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বা চলাচলের শর্ত আরোপ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, এই প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবহার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্র:মিডল ইস্ট আই, সিএনএন