বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- আপডেট সময় : ০২:০১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ১২৭ বার পড়া হয়েছে
ইরাকের রাজধানী বাগদাদ-এ অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে শনিবার (১৪ মার্চ) শক্তিশালী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, অন্তত একটি ড্রোন সরাসরি দূতাবাস প্রাঙ্গণে আঘাত হানে। পাশাপাশি একটি ক্ষেপণাস্ত্র দূতাবাসের অভ্যন্তরে থাকা হেলিপ্যাডে আঘাত করে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে হামলার পর সেখান থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। হামলার ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, বাগদাদে ইরান-সমর্থিত দুই যোদ্ধা নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবারই ইরাকের জন্য ‘লেভেল-৪’ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সতর্কবার্তায় বলা হয়, Iran এবং ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো মার্কিন নাগরিক, স্বার্থ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে এবং এ ধরনের ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান।
তবে এই হামলার বিষয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার পর পুরো কূটনৈতিক এলাকা বা ‘গ্রিন জোন’-এ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান ইরান ওমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে উত্তেজনার জেরে ইরাকেও অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এর আগেও একাধিকবার রকেট ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে এই দূতাবাস কমপ্লেক্সকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
আজকের হামলায় দূতাবাসের হেলিপ্যাড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে হেলিকপ্টার চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার পর দূতাবাস প্রাঙ্গণে সাইরেন বাজতে শোনা যায় এবং নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত সতর্ক অবস্থান নেন। তবে এ ঘটনায় কোনো মার্কিন নাগরিক বা দূতাবাসের কর্মী হতাহত হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরাকের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এই হামলা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসম্মিলিতভাবে ইরান-এ সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও দূতাবাসগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে।
বাগদাদের গ্রিন জোনে অবস্থিত এই মার্কিন দূতাবাসটি অত্যন্ত সুরক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও সেখানে ড্রোনের আঘাত হানা মার্কিন গোয়েন্দা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলার পর ইরাকে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক দেশই তাদের নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


















