ভোটে জাতির জয়, অভিনন্দন প্রধান উপদেষ্টার, গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা বললেন তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৫:৪৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭২ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের এক দীর্ঘ বিতর্কিত অধ্যায় পেরিয়ে এ বছরের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেন এক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিল। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভোটের পরিবেশ ছিল প্রশ্নবিদ্ধ; সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।
নির্বাচনকে ঘিরে ভয়, সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, বোমাবাজি, এমনকি রাতের ভোট এসব শব্দই যেন রাজনৈতিক অভিধানের অংশ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবারের চিত্র ছিল ভিন্ন।
রক্তপাতহীন, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক ভোটদান দেশের মানুষের মনে স্বস্তি ও প্রত্যাশার নতুন আলো জ্বালিয়েছে। বহু ভোটার আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেছেন, ১৭ বছর পর এবার নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছি।
এই অনুভূতি শুধু একটি নির্বাচনের নয়, এটি গণতন্ত্রে ফিরে পাওয়া আস্থার প্রকাশ। মাত্র কয়েকদিন আগেও নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে নিয়ে ছিল সংশয়, উৎকণ্ঠা ও নানা গুঞ্জন। কিন্তু আশঙ্কার মেঘ সরিয়ে ভোটের দিনটি রূপ নেয় এক শান্ত উৎসবে।
কোথাও গোলাগুলি নয়, কেন্দ্র দখলের খবর নয়, প্রাণহানির শোক নয়, বরং ছিল শৃঙ্খলা, সংযম ও দায়িত্ববোধের চিত্র। আগেই একটি স্মরণীয় ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা বলেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস।
বাস্তবে সেই প্রত্যাশাই যেন রূপ পেয়েছে এই নির্বাচনে। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং মানুষের মনে নতুন আশা, আস্থা ও গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় জাতির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই নির্বাচনকে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, সর্বোচ্চ ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে এবং ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি জাতির অঙ্গীকার অটুট ও অম্লান।
জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, যা একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছে। তিনি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তাদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বেই এ বৃহৎ গণতান্ত্রিক আয়োজন সফল হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পরও গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ঐক্যই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করেছে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এই নির্বাচনকে তিনি দেশের ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এর মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো। গণতন্ত্রকে উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছাতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় স্থাপিত অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ কক্ষ থেকে সারাদেশের ভোটদানের সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে বলেছে, পুলিশ সদর দপ্তরে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেও সারাদেশের ভোটদান চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।
এদিকে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন বলেন মন্তব্য করেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ কেন্দ্রে ভোটদান শেষে এ কথা জানান তিনি। সেনাপ্রধান বলেন, সকাল থেকেই সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। সারা দেশে ভোটগ্রহণের পরিস্থিতিতে জনগণ আশ্বস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান।


















