নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তি করবে ঢাকা
- আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় নির্বাচনের মাত্র চারদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকার বলছে, এই ক্রয়প্রক্রিয়া হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং ২০২৪ সালে শুরু হওয়া বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মাত্র ১৯টি উড়োজাহাজ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে চারটি উড়োজাহাজ অবসরে যাবে।
ফলে দীর্ঘমেয়াদি রুট টেকসই রাখতে নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন অপরিহার্য বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ৩৭ শতাংশ রিফিফোকাল ট্যারিফ আরোপের ফলে সৃষ্ট বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা নিরসনে ঢাকা ওয়াশিংটনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় আগ্রহী। প্রস্তাবিত ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার মাধ্যমে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি আংশিক সমন্বয়ের কৌশল দেখা যাচ্ছে।
৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতের সঙ্গে সরাসরি ৫–৭ লাখ কর্মসংস্থান জড়িত এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা সরকার অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সমালোচকরা। নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় অঙ্কের প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
অর্থনৈতিকভাবে এ ধরনের ক্রয় দীর্ঘমেয়াদে সক্ষমতা বৃদ্ধি, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। বিপরীতে, ঋণভার, বৈদেশিক মুদ্রা চাপ এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
সব মিলিয়ে, উদ্যোগটি কেবল একটি বাণিজ্যিক ক্রয় নয়; বরং এটি কূটনৈতিক ভারসাম্য, বাণিজ্য ঘাটতি ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় বিমান পরিবহন কৌশলের সমন্বিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে অর্থায়ন কাঠামো, ডেলিভারি শর্ত এবং ভবিষ্যৎ বাজার চাহিদার ওপর। ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, যার ফলে আরোপিত শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমবে এবং পোশাক শিল্পের শুল্ক শূন্যে নামাতে দরকষাকষি করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন।
তিনি জানান, শুল্ক সমন্বয়ের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব দিয়েছে, যার ১৪টি ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহের কথা। নির্বাচনের আগেই চুক্তি সম্পন্ন করার কারণ হিসেবে তিনি ভবিষ্যৎ বাণিজ্য স্বার্থ সুরক্ষার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া গত এক বছরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ভাড়া অর্ধেক কমেছে এবং হজ মৌসুমে সৌদি প্রবাসীরা ২০ হাজার টাকায় দেশে ফিরতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

















