ঢাকা ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

দুই সন্তানকে বুকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ, মুহূর্তেই নিভে গেল মায়ের পৃথিবী

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:০৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ ২৫৩ বার পড়া হয়েছে

দুই সন্তানকে বুকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ, মুহূর্তেই নিভে গেল মায়ের পৃথিবী

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কথা ছিল স্কুলে নিয়ে যাবেন। কিন্তু সেই পথেই যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিলেন মা-তা কেউ বুঝে উঠতে পারেনি। অবুঝ দুই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে জীবন শেষ করলেন এক নারী। মুহূর্তেই ঝরে গেল তিনটি তাজা প্রাণ।

গাজীপুর মহানগরের পূবাইল রেলস্টেশন এলাকার আউটার সিগন্যালের কাছে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন জয়দেবপুর থানার আতুরী এলাকার মো. উজ্জল মিয়ার স্ত্রী হাফেজা খাতুন মালা (৩৪) এবং তাদের দুই সন্তান-নুসরাত তাবাসসুম (৮) ও মারুফ (৫)।

পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাফেজা খাতুন মালার পারিবারিক কলহ হয়। এরপর সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। কিন্তু স্কুল নয়—তিনি সন্তানদের নিয়ে চলে যান পূবাইল রেলস্টেশনের পূর্ব পাশের আউটার সিগন্যাল এলাকায়। সেখানেই ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী একটি ট্রেন আসার সময় দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে লাইনের ওপর ঝাঁপ দেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। চারপাশে নেমে আসে শোকের ছায়া।

নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) দিলীপ কুমার জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

একটি পরিবার, একটি মা-আর দুটি নিষ্পাপ জীবন। পারিবারিক অশান্তি আর অসহায় মুহূর্তের সিদ্ধান্ত যে কত বড় ট্র্যাজেডি ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা যেন তারই নির্মম সাক্ষ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দুই সন্তানকে বুকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ, মুহূর্তেই নিভে গেল মায়ের পৃথিবী

আপডেট সময় : ০৫:০৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

কথা ছিল স্কুলে নিয়ে যাবেন। কিন্তু সেই পথেই যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিলেন মা-তা কেউ বুঝে উঠতে পারেনি। অবুঝ দুই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে জীবন শেষ করলেন এক নারী। মুহূর্তেই ঝরে গেল তিনটি তাজা প্রাণ।

গাজীপুর মহানগরের পূবাইল রেলস্টেশন এলাকার আউটার সিগন্যালের কাছে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন জয়দেবপুর থানার আতুরী এলাকার মো. উজ্জল মিয়ার স্ত্রী হাফেজা খাতুন মালা (৩৪) এবং তাদের দুই সন্তান-নুসরাত তাবাসসুম (৮) ও মারুফ (৫)।

পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাফেজা খাতুন মালার পারিবারিক কলহ হয়। এরপর সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। কিন্তু স্কুল নয়—তিনি সন্তানদের নিয়ে চলে যান পূবাইল রেলস্টেশনের পূর্ব পাশের আউটার সিগন্যাল এলাকায়। সেখানেই ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী একটি ট্রেন আসার সময় দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে লাইনের ওপর ঝাঁপ দেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। চারপাশে নেমে আসে শোকের ছায়া।

নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) দিলীপ কুমার জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

একটি পরিবার, একটি মা-আর দুটি নিষ্পাপ জীবন। পারিবারিক অশান্তি আর অসহায় মুহূর্তের সিদ্ধান্ত যে কত বড় ট্র্যাজেডি ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা যেন তারই নির্মম সাক্ষ্য।