গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা
- আপডেট সময় : ০২:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উত্তাল সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক হৃদয়স্পর্শী মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিনের বেদনা, অপেক্ষা ও না-পাওয়ার গল্পে ভরা এই আয়োজন ছিল শোক, প্রতিবাদ এবং আশার এক মানবিক মিলনমেলা।
আজ বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এ সভার আয়োজন করে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ গুমের শিকার পরিবারগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী দুটি সংগঠন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান। সভাস্থলে উপস্থিত স্বজনদের চোখেমুখে ছিল প্রিয়জন হারানোর গভীর ক্ষত, আর কণ্ঠে ছিল ন্যায়বিচারের আকুতি।
মতবিনিময়কালে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্ত্রী, সন্তান ও মা–বাবারা একে একে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। অনেকেই বলেন, বছরের পর বছর ধরে তাঁরা প্রিয়জনের কোনো খোঁজ পাননি; আইনের দ্বারে ঘুরেও ফিরে এসেছেন শূন্য হাতে। এই বর্ণনাগুলো শুনে সভাস্থলে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনো সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, “আপনাদের কষ্ট শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি পুরো জাতির কষ্ট। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে গুম-খুনের ঘটনার সত্য উদ্ঘাটন ও বিচার নিশ্চিত করতে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তাঁরা সবাই গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভা শেষে অনেক পরিবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দীর্ঘ অন্ধকারের পর হয়তো একদিন ন্যায়বিচারের আলো দেখবে তারা। এই মতবিনিময় শুধু একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি ছিল নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠকে শোনার এবং মানবিক দায়বদ্ধতার একটি শক্ত বার্তা।


















