পঞ্চগড়ে টানা ছয় দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত
- আপডেট সময় : ১২:১৮:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে
পৌষ মাস বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে এসে হিমালয়ঘেঁষা পঞ্চগড় জেলায় শীতের তীব্রতা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। টানা ছয় দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে এই জেলায়। ঝলমলে রোদ থাকলেও হিমালয় থেকে বয়ে আসা বরফভেজা উত্তুরে বাতাসে কাঁপছে জনজীবন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এর আগে সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানায়, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) থেকে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত ছয় দিন ধরে পঞ্চগড়েই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। এ সময় তাপমাত্রা কখনো ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি, কখনো ৭ থেকে ৮ ডিগ্রির ঘরে ওঠানামা করেছে। জেলার ওপর দিয়ে কখনো মৃদু, কখনো মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে।
দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও কাঙ্ক্ষিত উষ্ণতা না থাকায় ঠান্ডার তীব্রতা কমছে না। বিশেষ করে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ—কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, ভ্যানচালক ও পথচারীরা। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে কনকনে ঠান্ডায় রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

শীতের তীব্রতায় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, সামনের কয়েক দিনেও তাপমাত্রা খুব একটা বাড়ার সম্ভাবনা নেই। শীতপ্রবণ এই অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, দ্রুত সহায়তা না এলে শীতের দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।



















