জুলাই গণঅভ্যুত্থান হত্যাপ্রচেষ্টা মামলা, শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ
- আপডেট সময় : ১২:৪২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ প্রমাণে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য ও তথ্য না পাওয়ায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞা ‘তথ্যগত ভুল’ থাকার কথা উল্লেখ করে এ প্রতিবেদন জমা দেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ মোট ১১৩ জন।
মামলার তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় মীনা বাজারের সামনে সাহেদ আলী আহত হন। একই ঘটনায় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ মোট ৯জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়। এ ঘটনায় সাহেদের কথিত ভাই শরীফ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তদন্তকালে আহতদের খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন তদন্ত কর্মকর্তা।
পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞা জানান, জুলাই আন্দোলনে আহতদের তালিকা নিয়ে সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ মামলায় যেসব আহতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের নাম গেজেটে মেলেনি। তিনি বলেন, তথ্যগত ভুলের কারণে আপাতত আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে পুনরায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আহত সাহেদ আলীসহ অন্য ভুক্তভোগীদের সন্ধানে সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিঠি পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি বাদী শরীফকে নোটিশ দিয়ে তার ভাইকে থানায় হাজির করার অনুরোধ জানানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
এছাড়া মামলা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য হাজারীবাগে বাদীর ভাড়া বাসার ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হলে বাড়িওয়ালা জানান, শরীফ নামের কোনো ব্যক্তি সেখানে বসবাস করেন না। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায়, বাদীর প্রকৃত নাম শরিফুল ইসলাম। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তবে সেই ঠিকানাতেও খোঁজ নিয়ে তাকে শনাক্ত করা যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাদীর দেওয়া মোবাইল নম্বর অধিকাংশ সময় বন্ধ পাওয়া গেছে। একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলেও তিনি ভুক্তভোগী হাজির করা কিংবা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র জমা দেননি। এমনকি মামলার এজাহারেও চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য সংযুক্ত ছিল না।
এই সার্বিক প্রেক্ষাপটে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য–প্রমাণ না থাকায় তদন্ত কর্মকর্তা শেখ হাসিনাসহ সব আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।



















