ওরা এই বাড়িতেই খাবে, আমরা যা খাই ওরাও তাই খাবে’, খালেদা জিয়াকে নিয়ে হামিন আহমেদের স্মৃতিচারণ
- আপডেট সময় : ০৪:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনে তাঁকে নিয়ে একের পর এক স্মৃতি ভাগ করে নিচ্ছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলসের ভোকালিস্ট হামিন আহমেদও সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি তুলে ধরেছেন খালেদা জিয়ার মানবিকতা, সৌজন্য ও ব্যক্তিত্বের এক অনন্য স্মৃতি।
ফেসবুক পোস্টের শুরুতেই হামিন লেখেন, ‘এর আগে কখনও বলা হয়নি, আজ শেয়ার করছি।’
তিনি জানান, ১৯৯৩–৯৪ সালের দিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমন্ত্রণে ব্যান্ড মাইলস তাঁর সেনানিবাসের শহীদ মঈনুল রোডের বাসভবনে সংগীত পরিবেশন করতে যায়। সে সময় ব্যান্ডের সদস্য ছিলেন হামিন, শাফিন, মানাম এবং সম্ভবত মাহবুব। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকবেন—এ তথ্য জানার পর সবাই ছিলেন রোমাঞ্চিত ও কিছুটা নার্ভাস।
হামিন লেখেন, সেদিন প্রথমবার সামনাসামনি খালেদা জিয়াকে দেখার সুযোগ হয় তাঁর। ‘তিনি ছিলেন অভিজাত, মার্জিত ও ব্যক্তিত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের সঙ্গে এমন আন্তরিকতায় কথা বললেন, আমরা সবাই অভিভূত হয়ে পড়েছিলাম।’ অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ও তাঁর বন্ধুরাও ছিলেন এবং তাঁরাও ব্যান্ড সদস্যদের খুব স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেন।
মূল অনুষ্ঠানের আগে দুপুরে সাউন্ডচেক চলতে চলতেই খাবারের সময় হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠরা মাইলস সদস্যদের বাইরে কোথাও খাওয়ার ব্যবস্থা করতে চাইছিলেন। কিন্তু তখনই সবাইকে অবাক করে দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘না, ওরা এই বাড়িতেই খাবে। আমরা যা খাই, ওরাও তাই খাবে।’
সেদিন প্রধানমন্ত্রীর এই আতিথেয়তা মাইলস সদস্যদের বিস্মিত করে। হামিন লেখেন, ‘আমরা ডাইনিং টেবিলে বসলাম। আরও অবাক হলাম, যখন তিনি নিজেই আমাদের প্লেটে খাবার তুলে দিতে শুরু করলেন। আমি নিজের প্লেটের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম—এটা কি সত্যিই ঘটছে? দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি ছিলেন কতটা মানবিক ও বিনয়ী!’

সন্ধ্যায় গান পরিবেশনের সময় খালেদা জিয়া অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং গানগুলোর প্রশংসাও করেন। সেই দিনের স্মৃতি হামিনদের পরিবারে আজও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
হামিন ও শাফিন আহমেদ জন্মেছেন এক ধ্রুপদী সংগীত পরিবারে। তাঁরা কিংবদন্তি নজরুলসংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগম ও সুরকার কমল দাশগুপ্তের সন্তান। ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ফিরোজা বেগমের মৃত্যু হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না পাওয়ায় তখন ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন খালেদা জিয়া। অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি ঢাকার ইন্দিরা রোডের কালিন্দী অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ান।
হামিন লেখেন, ‘তিনি আমাদের এমনভাবে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন, যেন তিনি আমাদের পরিবারেরই একজন।’
এক আশ্চর্য কাকতালীয়তায় জীবনের শেষ দিনগুলো খালেদা জিয়া কাটিয়েছেন এমন একটি বাড়িতে, যার নাম—‘ফিরোজা’।
দীর্ঘ অসুস্থতার পর গত ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শোকবইয়ে রূপ নেয়। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত এই নেত্রী বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪১ বছর। পাঁচবার সংসদ সদস্য, তিনবার প্রধানমন্ত্রী এবং দুইবার বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
মানুষের হৃদয়ে মানবিকতা ও সম্মানের যে ছাপ রেখে গেছেন—সেই স্মৃতিই আজ উঠে আসছে নানা স্মৃতিচারণে।



















